Tuesday, September 10, 2019

সন্দ্বীপের স্বার্থে সকলে ঐক্য হয়ে সন্দ্বীপ কে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে হবে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যরূপ দিয়ে মহান উপরওয়ালা সৃষ্টি করেছেন এক খন্ড সোনার দ্বীপ।

মহান উপরওয়ালা তৈরি করেছেন যাহা রক্ষা করার জন্য মানব জাতি কাজ করতে হবে।তাই এই দ্বীপ কে যদি বাংলাদেশ সরকার যথাযথ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে আমার মত বিশ্বের শ্রেষ্ঠ পর্যটন ও অর্থনৈতিক জোনে পরিনত হবে।।

এক কথায়  বিশ্বের একমাত্র গোলাকার গভীর সমুদ্র বন্দর ও পর্যটন কেন্দ্রতে পরিণত হবে।সন্দ্বীপে  সাগর কোলো আধুনিক আধুনিক অবকাঠামো সহ আধুনিক হোটেল মোটেল সহ বন্দর নির্মান করলে পৃথিবীর শ্রেষ্ট্র ভ্রমন স্থানে পরিণত হবে।এর জন্য প্রয়োজন সরকারের সুষ্ঠ পরিকল্পনা।এবং সন্দ্বীপে নেতৃবৃন্দ সহ সচেতন গোষ্টি সন্দ্বীপ কে তুলে ধরতে হবে।।

আমাদের সন্দ্বীপে মৌলিক সমস্যার মধ্যে অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো যাতায়াত ব্যবস্থা।।

দ্বীপ উপজেলা হিসেবে সন্দ্বীপের সাথে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার দূর্গমতা সন্দ্বীপকে সামগ্রীক উন্নয়নের পথে প্রধান অন্তরায় হিসাবে চিহ্নিত।তবে সরকার এই দ্বীপ কে চট্টগ্রাম সিতাকুন্ড  উপজেলা সাথে সংযুক্ত করে,আধুনিক সড়ক ব্যবস্থা করলে দেশে ৭০% অর্থনৈতিক যোগান দেওয়া সম্ভব হবে।।এজন্য সম্ভব বর্তমানে রেমিটেন্স ৩৮% দিচ্ছে যদি এই দ্বীপের সাথে সংযোগ সড়ক হয় পর্যটন,বন্দর,শিল্প খাত মাধ্যমে ৩২% প্রবৃব্দি অর্জন করা সম্ভব।।

সাধারনত এই দ্বীপে পরিবেশগত, অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা, সাস্থ্য, মানব সম্পদ উন্নয়ন তথা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্ব অপরিসীম।

হাজার বছরের সমস্যা হিসাবে বিচ্ছিন্ন জনপদ সন্দ্বীপের সাথে মূল ভূ-খণ্ডের যোগাযোগ -
ব্যবস্থার চরম কষ্টদায়ক ও আদিমতা অভিজ্ঞতা এখনো চলমান।।

উত্তাল সন্দ্বীপ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে, অনিরাপদ নৌ-যানে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করতে হচ্ছে সন্দ্বীপের ভাগ্যহত মানুষদের !

মাইলের পর মাইল কাদা মাটি মাড়িয়ে কোমর পানিতে ভিজে জুবুথুবু হয়ে এ এক অন্যরকম দুর্গম পথ চলা!
নারী,শিশু, বৃদ্ধ কিংবা রোগী সবাইকে এ দুর্ভোগ পোহাতে হয় ! যা এক কথায় অমানবিকতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতই অপরাধের সামিল।

বর্তমান আধুনিক বিশ্বে মানুষ এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে কিংবা গ্রহ থেকে গ্রহে ছুটে যাচ্ছে খুব দ্রুত এবং নিরাপদে !সেখানে মাত্র কয়েক কিলোমিটার সন্দ্বীপ চ্যানেল এখনো অনিরাপদ অনাবিষ্কৃত যেন এক সাক্ষাৎ মৃত্যুকুপ !

এছাড়া সন্দ্বীপ চ্যানেল দিয়ে লক্কড়-ঝক্কর, ফিটনেস ও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের অনুমোদনহীন অনিরাপদ নৌ-যানে চড়ে জীবন জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়ে যে কোন আবহাওয়া মোকাবেলা করে অনায়সে হাজার হাজার মানুষ নদী পাড় হচ্ছে ! নির্ঘাত অপমৃত্যুকে আলিঙ্গন করে এ যাত্রায় যারা বেঁচে যায় তাঁরা ভাগ্যবান কিন্তু সময় সময় এখানে ঘটে নির্মম সলিল সমাধি !

আরও কত দশক অপেক্ষা করলে এ অসহনীয় অমানবিক জন দুর্ভোগ থেকে উত্তরণ পাবে সন্দ্বীপের মানুষ ?

এর উত্তর আমাদের জানা নাই। মনেহয় একমাত্র মহান ভাগ্যবিধাতা ছাড়া এর উত্তর কারো জানা নায়।

সন্দ্বীপের মানুষ প্রচণ্ড ধৈর্যশীল, ভদ্র ও কষ্ট সহিষ্ণু তাই যুগের পর যুগ রাষ্ট্রযন্ত্রের এ অবিচার এবং অমানবিক কষ্ট সয়ে যাচ্ছে নিরবে নিভৃতে !

সন্দ্বীপ আজ যুগের সাথে সমানে তাল মিলিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে ! অপ্রতুল ও নিরাপদ যোগাযোগ সমস্যা থাকা সত্ত্বেও কঠোর শ্রম মনোবল ও আত্মবিশ্বাসের বলীয়ান হয়ে বীর প্রসবিনী সন্দ্বীপের মৌলিক অবকাঠামোতে লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া ।
জনজীবনে আছে সচ্ছলতা। স্বপ্নের নিরাপদ নৌ-রুটের কামনায় সদা স্বপ্নে বিভোরএ অঞ্চলের অমায়িক মানুষ গুলি।

সন্দ্বীপের সাথে দেশের মূল ভূখণ্ডের সড়ক যোগাযোগ স্থাপন সুবিধা বঞ্চিত সন্দ্বীপের মানুষের আজন্ম লালিত স্বপ্ন !প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম এ স্বপ্ন দেখে আসছে ! কিন্তু প্রজন্মের নেতৃত্বদানকারীদের দূরদর্শীতা ও যথাযথ পদক্ষেপের কারনে বাস্তব স্বপ্ন থেকে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

মূল ভূখণ্ডের সাথে সন্দ্বীপের সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের উপায় সম্ভব ব্রিজ নির্মাণ ও ফেরি চলাচল এর মাধ্যমে। তবে এ জন্যে সবার আগে সম্ভাব্যতা যাচাই ও নদী শাসন জরুরী।

সন্দ্বীপ- চট্টগ্রাম স্বপ্নের ব্রিজ নির্মাণে বাজেট কোন সমস্যা না, সন্দ্বিপিরা ব্যাক্তিগত উদ্যেগে ব্রিজের অর্থের যোগান দিতে সক্ষম বলে আমরা মনে করি।
কিন্তু প্রযুক্তিগত এবং অন্যান্য দিক গুলি বিবেচনা করবে কে?অবশ্যই রাষ্ট্র, প্রশাসন কিংবা সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ।মূল কথা, বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে ?

সন্দ্বীপের যোগাযোগ সমস্যা যেমন একদিনের না।আমাদের চুপ না থেকে সমস্যার কথা পৌঁছাতে হবে। যথাযথ সংস্থায় এবং নিজেদের চাওয়া পাওয়ার দাবী উপস্থাপন করতে হবে। দাবীর স্ব-পক্ষে ও দাবী বাস্তবায়নে গ্রহণ যোগ্যে প্রস্তাবনা উপস্থাপন করতে হবে। থাকতে হবে নিজেদের মধ্যে নেতৃত্বের ঐক্যবদ্ধতা ও জনগণের নিকট দায়বদ্ধতা।

পাশাপাশি আমরা সন্দ্বীপের তথা দেশের বিত্তশালী ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের কে  সন্দ্বীপে কথা তুলে ধরতে হবে।সরকার ও সন্দ্বীপের বৃত্তশালীদের কে এগিয়ে এসে সন্দ্বীপে প্রকল্প তৈরী করে অর্থনৈতিক জোনে পরিনত করতে হবে।।।