Tuesday, September 10, 2019

সন্দ্বীপের স্বার্থে সকলে ঐক্য হয়ে সন্দ্বীপ কে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে হবে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যরূপ দিয়ে মহান উপরওয়ালা সৃষ্টি করেছেন এক খন্ড সোনার দ্বীপ।

মহান উপরওয়ালা তৈরি করেছেন যাহা রক্ষা করার জন্য মানব জাতি কাজ করতে হবে।তাই এই দ্বীপ কে যদি বাংলাদেশ সরকার যথাযথ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে আমার মত বিশ্বের শ্রেষ্ঠ পর্যটন ও অর্থনৈতিক জোনে পরিনত হবে।।

এক কথায়  বিশ্বের একমাত্র গোলাকার গভীর সমুদ্র বন্দর ও পর্যটন কেন্দ্রতে পরিণত হবে।সন্দ্বীপে  সাগর কোলো আধুনিক আধুনিক অবকাঠামো সহ আধুনিক হোটেল মোটেল সহ বন্দর নির্মান করলে পৃথিবীর শ্রেষ্ট্র ভ্রমন স্থানে পরিণত হবে।এর জন্য প্রয়োজন সরকারের সুষ্ঠ পরিকল্পনা।এবং সন্দ্বীপে নেতৃবৃন্দ সহ সচেতন গোষ্টি সন্দ্বীপ কে তুলে ধরতে হবে।।

আমাদের সন্দ্বীপে মৌলিক সমস্যার মধ্যে অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো যাতায়াত ব্যবস্থা।।

দ্বীপ উপজেলা হিসেবে সন্দ্বীপের সাথে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার দূর্গমতা সন্দ্বীপকে সামগ্রীক উন্নয়নের পথে প্রধান অন্তরায় হিসাবে চিহ্নিত।তবে সরকার এই দ্বীপ কে চট্টগ্রাম সিতাকুন্ড  উপজেলা সাথে সংযুক্ত করে,আধুনিক সড়ক ব্যবস্থা করলে দেশে ৭০% অর্থনৈতিক যোগান দেওয়া সম্ভব হবে।।এজন্য সম্ভব বর্তমানে রেমিটেন্স ৩৮% দিচ্ছে যদি এই দ্বীপের সাথে সংযোগ সড়ক হয় পর্যটন,বন্দর,শিল্প খাত মাধ্যমে ৩২% প্রবৃব্দি অর্জন করা সম্ভব।।

সাধারনত এই দ্বীপে পরিবেশগত, অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা, সাস্থ্য, মানব সম্পদ উন্নয়ন তথা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্ব অপরিসীম।

হাজার বছরের সমস্যা হিসাবে বিচ্ছিন্ন জনপদ সন্দ্বীপের সাথে মূল ভূ-খণ্ডের যোগাযোগ -
ব্যবস্থার চরম কষ্টদায়ক ও আদিমতা অভিজ্ঞতা এখনো চলমান।।

উত্তাল সন্দ্বীপ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে, অনিরাপদ নৌ-যানে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করতে হচ্ছে সন্দ্বীপের ভাগ্যহত মানুষদের !

মাইলের পর মাইল কাদা মাটি মাড়িয়ে কোমর পানিতে ভিজে জুবুথুবু হয়ে এ এক অন্যরকম দুর্গম পথ চলা!
নারী,শিশু, বৃদ্ধ কিংবা রোগী সবাইকে এ দুর্ভোগ পোহাতে হয় ! যা এক কথায় অমানবিকতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতই অপরাধের সামিল।

বর্তমান আধুনিক বিশ্বে মানুষ এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে কিংবা গ্রহ থেকে গ্রহে ছুটে যাচ্ছে খুব দ্রুত এবং নিরাপদে !সেখানে মাত্র কয়েক কিলোমিটার সন্দ্বীপ চ্যানেল এখনো অনিরাপদ অনাবিষ্কৃত যেন এক সাক্ষাৎ মৃত্যুকুপ !

এছাড়া সন্দ্বীপ চ্যানেল দিয়ে লক্কড়-ঝক্কর, ফিটনেস ও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের অনুমোদনহীন অনিরাপদ নৌ-যানে চড়ে জীবন জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়ে যে কোন আবহাওয়া মোকাবেলা করে অনায়সে হাজার হাজার মানুষ নদী পাড় হচ্ছে ! নির্ঘাত অপমৃত্যুকে আলিঙ্গন করে এ যাত্রায় যারা বেঁচে যায় তাঁরা ভাগ্যবান কিন্তু সময় সময় এখানে ঘটে নির্মম সলিল সমাধি !

আরও কত দশক অপেক্ষা করলে এ অসহনীয় অমানবিক জন দুর্ভোগ থেকে উত্তরণ পাবে সন্দ্বীপের মানুষ ?

এর উত্তর আমাদের জানা নাই। মনেহয় একমাত্র মহান ভাগ্যবিধাতা ছাড়া এর উত্তর কারো জানা নায়।

সন্দ্বীপের মানুষ প্রচণ্ড ধৈর্যশীল, ভদ্র ও কষ্ট সহিষ্ণু তাই যুগের পর যুগ রাষ্ট্রযন্ত্রের এ অবিচার এবং অমানবিক কষ্ট সয়ে যাচ্ছে নিরবে নিভৃতে !

সন্দ্বীপ আজ যুগের সাথে সমানে তাল মিলিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে ! অপ্রতুল ও নিরাপদ যোগাযোগ সমস্যা থাকা সত্ত্বেও কঠোর শ্রম মনোবল ও আত্মবিশ্বাসের বলীয়ান হয়ে বীর প্রসবিনী সন্দ্বীপের মৌলিক অবকাঠামোতে লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া ।
জনজীবনে আছে সচ্ছলতা। স্বপ্নের নিরাপদ নৌ-রুটের কামনায় সদা স্বপ্নে বিভোরএ অঞ্চলের অমায়িক মানুষ গুলি।

সন্দ্বীপের সাথে দেশের মূল ভূখণ্ডের সড়ক যোগাযোগ স্থাপন সুবিধা বঞ্চিত সন্দ্বীপের মানুষের আজন্ম লালিত স্বপ্ন !প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম এ স্বপ্ন দেখে আসছে ! কিন্তু প্রজন্মের নেতৃত্বদানকারীদের দূরদর্শীতা ও যথাযথ পদক্ষেপের কারনে বাস্তব স্বপ্ন থেকে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

মূল ভূখণ্ডের সাথে সন্দ্বীপের সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের উপায় সম্ভব ব্রিজ নির্মাণ ও ফেরি চলাচল এর মাধ্যমে। তবে এ জন্যে সবার আগে সম্ভাব্যতা যাচাই ও নদী শাসন জরুরী।

সন্দ্বীপ- চট্টগ্রাম স্বপ্নের ব্রিজ নির্মাণে বাজেট কোন সমস্যা না, সন্দ্বিপিরা ব্যাক্তিগত উদ্যেগে ব্রিজের অর্থের যোগান দিতে সক্ষম বলে আমরা মনে করি।
কিন্তু প্রযুক্তিগত এবং অন্যান্য দিক গুলি বিবেচনা করবে কে?অবশ্যই রাষ্ট্র, প্রশাসন কিংবা সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ।মূল কথা, বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে ?

সন্দ্বীপের যোগাযোগ সমস্যা যেমন একদিনের না।আমাদের চুপ না থেকে সমস্যার কথা পৌঁছাতে হবে। যথাযথ সংস্থায় এবং নিজেদের চাওয়া পাওয়ার দাবী উপস্থাপন করতে হবে। দাবীর স্ব-পক্ষে ও দাবী বাস্তবায়নে গ্রহণ যোগ্যে প্রস্তাবনা উপস্থাপন করতে হবে। থাকতে হবে নিজেদের মধ্যে নেতৃত্বের ঐক্যবদ্ধতা ও জনগণের নিকট দায়বদ্ধতা।

পাশাপাশি আমরা সন্দ্বীপের তথা দেশের বিত্তশালী ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের কে  সন্দ্বীপে কথা তুলে ধরতে হবে।সরকার ও সন্দ্বীপের বৃত্তশালীদের কে এগিয়ে এসে সন্দ্বীপে প্রকল্প তৈরী করে অর্থনৈতিক জোনে পরিনত করতে হবে।।।

Sunday, July 21, 2019

ভারত যেমনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের ভৃমিকা রেখেছিলেন এরচেয়ে বেশী ক্ষতি করে যাচ্ছে।

ভারত যেমনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের ভৃমিকা রেখেছিলেন এরচেয়ে বেশী ক্ষতি করে যাচ্ছে।রিয়াদ রহমান।
__________________________________________

ইতিহাস পর্যলোচনা করলে দেখা মিলে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের জন্য ভারত চমৎকারভাবে সহযোগিতা করেছে। যাহা কখনো অস্বীকার করার মত না।

তবে পত্র পত্রিকা পরিসংখ্যান মত দেখা যাচ্ছে  বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর ভারত থেকে অমানবিক  নির্যাতিনে শিকার হয়েছে বাংলাদেশ ।

বিশেষ করে সীমান্তে বাঙালীদের কে হত্যা করে তারের বেড়ার সাথে লটকিয়ে রেখেছিল যাহা স্বাধীন দেশে সন্মানের আঘাত করেছে।উদাহরন ফেলানী কে হত্যা করে  তারের সাথে ঝুলিয়ে রাখা ঘটনা মুক্তিযোদ্ধাদের সন্মানের আঘাত করার সামিল।এছাড়া ফেনী পড়শুরাম স্থল বন্দর জিরো পয়েন্টে তাদের আধিপত্য আমার চোখে পড়েছে।সন্ধ্যা নামার পর তারা আমাদের দেশের উপর গোলাবারুদ মেরে ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে যাচ্ছে যাহা কখনো সভ্য প্রতিবেশীদের কাজ বলে গণ্য নহে।এমন কি জিরো পয়েন্টে তারা ডুকে যে আধিপত্য করে তা কখনো কাম্য নয়।

এক কথায় বিভিন্ন দিক থেকে ভারত বাংলাদেশের প্রতি অত্যাচার, নীপিড়ন করে আসছে। ভারতের ন্যূনতম সহানুভুতি ও নেই।ভারত আমাদের প্রতিবেশী তারা আমাদের ওপর যেসকল অত্যাচার করে আসছে তা কখনো কাম্য নয়।।

এক কথায় ভারতের অব্যাহত বৈষম্য, অবিচার ও ষড়যন্ত্রে বাংলাদেশ ও জাতির অস্তিত্ব বিপন্ন হতে চলেছে। ভারত আন্তর্জাতিক রীতি নীতি উপেক্ষা করে তার আধিপত্যবাদ আর সম্প্রসারণবাদী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে যাহা প্রতিবেশীর অস্তিত্ব বিপন্নের মধ্যে দিয়ে।।

স্বাধীন বাংলাদেশ একটি সংগ্রামের ফসল।৩০ লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের দেশ ও নদীমাত্রক দেশ বাংলাদেশ। নদীর প্রবাহের সাথে মানুষের জীবনপ্রবাহ জড়িত। সেই অর্থে নদী বাঁচবে, আমরাও বাঁচব।।

তবে বাংলাদেশ ভারত থেকে ৫৪টি এবং মিয়ানমার থেকে তিনটিসহ মোট ৫৭টি নদী শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে আমাদের ভূখণ্ড বা কলিজার ভিতর দিয়ে প্রবাহিত।।

বাংলাদেশে একসময় ১২০০ নদীর নাম শোনেছি।  এখন ২০০/২৫০ নদীও সচল নেই। সব শুকিয়ে চিকন মরা খালে পরিণত হয়েছে। চিহ্নই থাকছে না। আমাদের তিন দিক দিয়ে ঘেরা বৃহৎ প্রতিবেশী দেশ ভারত আন্তর্জাতিক নদীর সকল নিয়ম-কানুন লঙ্গন করে একতরফাভাবে উজানে বাঁধ দিয়ে পানিকে প্রত্যাহার করে বাংলাদেশকে মরুভ‚মিতে পরিণত করছে।।

যার ফলে হাওড়-বাওড়, বিল-ঝিল খাল, বিপর্যস্ত করে তুলছে। সারাদেশে প্রায় আট কোটি মানুষ আর্সেনিক আতঙ্কে রয়েছে। কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুষ্টিয়া, বগুড়ার বিস্তর এলাকায় (৬০-৭৫) শতাংশ টিউবওয়েলে আর্সেনিক সমস্যা বিরাজমান।।

দেশের মোট ৬৪ টি জেলা ও ২৭১টি উপজেলায় আর্সেনিক বিষ কম বেশি রয়েছে। নদীর পানি কমে যাওয়ায় কৃষি, শিল্প, সেচ, নৌ-পরিবহন, গাছ-পালা, পরিবেশ, মৎস্য সম্পদ, পানীয় জলসহ বহুবিধ শঙ্কা প্রবল হয়ে জমির উর্বরতা নষ্ট ও শিল্প কারখানা ধ্বংস করে দিচ্ছে।।

উত্তরাঞ্চলের পদ্মা, যমুনা, তিস্তা নদীতে এখন সম্পূর্ণ চর পড়ে গেছে। চরে এখন মানুষেরা ফুটবল, ক্রিকেট ইত্যাদি খেলাধুলা করছে।

বাংলাদেশের পশ্চিম সীমান্তে অন্যততম প্রধান নদী পদ্মার ১৯ মাইল উজানে মুর্শিদাবাদ জেলার ফারাক্কা নামক স্থানে ভারত ১৯৬১ সালে বাঁধ দেয়ার কাজ শুরু করে এবং ১৯৭৪ সালে ফিডার কেনেলসহ নির্মাণকাজ শেষ করে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করে।।

আজ ৪৭ বছর ধরে ভারতে পরীক্ষাই শেষ হলো না। (ভারত হচ্ছে সালিস মানি, কিন্তু তালগাছ আমার, এই নীতিতে বিশ্বাসী)।।

অথচ ভারত সরকার প্রায় আলোচনা ও সেমিনারে বলে থাকে, বাংলাদেশের ক্ষতিকারক কিছুই তারা করবে না। ফারাক্কা বাঁধ চালুর আগে বাংলাদেশে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের কাছে শীত মৌসুমে, ৪৭ হাজার কিউসেক পানি প্রবাহ থাকত।।

১৯৭৫ সাল থেকে নানা প্রকার সমঝোতা চুক্তি ইত্যাদি স্বাক্ষরের জমি এবং চার কোটি মানুষের জীবন ও পরিবেশকে বিপন্ন করা হয়েছে। শীতকালে বহু নদীতে নৌকার বদলে গরু-মহিষের গাড়ি চলে। প্রমত্তা নদীগুলো এখন চিকন মরা খালে পরিণত হয়েছে।।

আমাদের দেশের ১৯৭১ সালের রেকর্ড থেকে দেখা যায়, নৌপথের দৈর্ঘ্য ছিল ২৪ হাজার কিলোমিটার এবং বর্তমানে ছয় হাজার কিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে।।

বাংলাদেশ নদীবাহিত পানির প্রায় ৬১ শতাংশ আসে ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে। ভারত আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পে নামে ব্র‏হ্মপুত্রের পানি উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের মরুভমি অঞ্চলে (মরুভ‚মিকে মরুদ্যানে পরিণত করার উদ্দেশ্য) সরিয়ে নেয়ার যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তা বাস্তবায়িত হলে আমরা পানির জন্য হাহাকারের দেশে পরিণত হবো।।

ভারতের এরকম বৈরী আচরণ অব্যাহত থাকলে এ দেশে একদিন কারবালার মাতম উঠবে। সুবজ, শ্যামল, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর প্রাণী বৈচিত্র্যে ভরপুর সুবৃহৎ বদ্বীপ বাংলাদেশ হারিয়ে যাবে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে।।

বিশেষ করে জাতিসংঘ ঘোষিত পৃথিবীর মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ সর্বশ্রেষ্ঠ ম্যানগ্রোভ বনভ‚মি সুন্দরবনও হারিয়ে যাবে। ইতোমধ্যে ভারসম্যহীন লভণাক্ততার কারণে সুন্দরী গাছের আগামরা রোগ দেখা দিয়েছে।ফলে শুধু দক্ষিণ এশিয়া নয়, গোটা পৃথিবীর পরিবেশে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা করেছেন খ্যাতনামা ভূতত্ত্ববিদ ও পানি বিশেষজ্ঞরা।


ফারক্কা বাঁধের প্রভাবে ৪৭ বছরে বাংলাদেশ হারিয়েছে ৮০ ভাগ নৌপথ। নৌপথে যাতায়াত ও মালামাল পরিবহন কম খরচে করা যায়। নৌ-চলাচলের জন্য নদীর গভীরতা কমপক্ষে দরকার তিন মিটার, বাংলাদেশের কোনো কোনো নদীতে এখন তা দুই মিটারের নিচে।।

পানি চুক্তি অনুসারে ৩৬ হাজার কিউসেক পানি পাওয়ার কথা। কিন্তু ফারাক্কা বাঁধের মাধ্যমে ভারত পানি নিয়ন্ত্রণ করায় বাংলাদেশ পায় মাত্র আট হাজার কিউসেক পানি। এবার তাও পায়নি?

ভারত বার বার বলেছে,বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢল কম হয়েছে, ইত্যাদি। ফারাক্কার পানি প্রবাহ বাড়ানোর জন্য ভারত সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিলেও আসলে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।ভারত মুখে আর অন্তরে ১০০ ভাগ উল্টো কাজ করছে।।

আমাদের দেশে শীত ও গ্রীস্মকালে যখন আমাদের প্রচুর পানি দরকার, তখন ভারত সবগুলো গেট বন্ধ রাখে। আর যখন বর্ষাকাল, আমাদের পানির দরকার নেই, তখন সবগুলো গেট খুলে দেয়। ফলে মহাপ্লাবনে আমাদের দেশ ডুবে যায়।

২০০৫ সালে আমাদের দেশে দুই মাসের মধ্যে তিনবার বন্যা হয়েছে। এতে ঘরবাড়ি, ফসলহানীসহ বাংলাদেশের হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। সবকিছু ধ্বংস হয়ে যায়।।

বর্তমানে ঘোড়াশাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে সি. ডব্লিউপাস্প কন্ডেনসারকে সঠিকভাবে ঠান্ডা করতে পারছে না। ফলে কন্ডেনসারের ভ্যাকুয়াম কম এবং এগজস্ট টেম্পারেচার বেশি। বাধ্য হয়ে কম উৎপাদন করতে হচ্ছে। কারণ- (১) নদীর পানির গভীরতা কম। (২) নদীতে ফ্লো নেই। (৩) পানির অ্যামোনিয়া, কন্ডাস্ট্রিভিটি হর্ডনেসের পরিমাণ বেড়ে গেছে। (৪) অল্প সময়ের মধ্যেই মেয়াদোত্তীর্ণের অনেক আগে কন্ডেনসারের টিউবগুলো মরিচা ধরে ফুটো হয়ে বাতিল হয়ে যাচ্ছে। (৫) নদীর পানিই বেশি গরম থাকে, ঠিকভাবে ঠান্ডা হয় না। কন্ডেনসারকে কিভাবে ঠান্ডা করবে? (৬) নদীতে লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে ড্রেজিং করেও সুফল পাওয়া যাচ্ছে কম। যে হারে পলি-বালি ইত্যাদি পড়ে নদীর তলদেশ উঁচু হয়ে যাচ্ছে এবং পানির গভীরতা কমছে। তাই মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই ঘোড়াশাল বিদ্যুৎকেন্দ্র চালিয়ে রাখা কঠিন হবে।।

ফারাক্কা বাঁধের কারণে দেশের ৭৫ ভাগ এলাকায় পরিবেশে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। টিপাইমুখ বাঁধ ভারত এখন আবার মেঘনার উৎস নদী সিলেটের সুরমা ও কুশিয়ারার উজানে মনিপুর রাজ্যের টিপাইমুখ নামক স্থানে বোরাক নদীতে বাঁধ দিয়েছে। যার ফলে  কুশিয়ারা নদী শুকিয়ে যাচ্ছেও মেঘনা নদীতে চর পড়ে গেছে।

বাংলাদেশে প্রতিটি সরকারের আমলেই  রাজনৈতিক দলগুলোর শুধু একটাই কাজ- সরকারের কঠোর সমালোচনা করে নিজেরা ক্ষমতায় যাওয়ার অপচেষ্টা করা।।

যেমন-  বিদ্যুৎ সমস্যার জন্য আমরা সরকারের বিরুদ্ধে সকল প্রকার সমালোচনা করছে। কিন্তু আমরা কি একবারও ভেবেছে- গ্রীষ্ম ও শীতে বিদ্যুৎ কেন নেই?

বাংলাদেশের নদীর পানি ভাতর গ্রীষ্ম ও শীত মৌসুমে আটকে রাখার কারণে নদীতে পানি কম থাকায় বিদ্যুৎ উৎপন্ন চাহিদানুযায়ী হয় না। ভারত দীর্ঘ দিন ধরে বাংলাদেশের ওপর আধিপত্যবাদ বিস্তার এবং মুখে লম্বা লম্বা কথা বলছে। অথচ গঙ্গার পানি চুক্তি ও তিন বিঘা করিডোরের সমস্যার সমাধান করছে না।

জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে এই মুহূর্তে আমাদের করণীয় কাজ হচ্ছে যেমন- (ক) টিপাইমুখে বাঁধ দিয়ে সুরমা-কুশিয়ারা ও মেঘনা নদী শুকিয়ে মারার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ানো। (খ) গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়করণ। (গ) আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের নামে ব্রক্ষপুত্র তিস্তার পানি প্রত্যাহারের চক্রান্ত প্রতিহতকরণ। (ঘ) বিশ্বব্যাংকের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। (ঙ) আঞ্চলিক সংস্থা সার্কে আলোচনা করে নিষ্পত্তিকরণ- না হয় আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে আমাদের ন্যায্য পানির হিস্যা আদায়করণ।

পানি আল্লাহর দান ও নেয়ামত। পানির অপর নাম জীবন। মানবকুলসহ সব প্রাণী ও উদ্ভিদের সৃষ্ট উপাদানও পানি। পৃথিবীর ৭৫ শতাংশ পানি। পানি জীবনের জন্য আবশ্যক বলে মহান আল্লাহ তায়ালা পানিকে সহজলভ্য করে দিয়েছেন। অথচ এই হিংসুক মানব গোষ্ঠী একে অপরকে পানির অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে।।

ইয়াজিদ কারবালার প্রান্তরে হযরত ইমাম হোসেন (রা.) এর পরিবারসহ সঙ্গীদের ফোর্সদের পানি থেকে (রেবিকেড দিয়ে) বঞ্চিত করে দুধের শিশুসহ সবাইকে শহীদ করেছিল।।

ঠিক ভারত ও  ৫৪টি নদীর উজানে বিভিন্ন বাঁধ দিয়ে বাংলাদেশকে একবার শুকিয়ে ও আবার ডুবিয়ে মারার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তাই সুজলা-সুফলা, শষ্য-শ্যামল বাংলার ভবিষ্যৎ অস্তিত্ব রক্ষার্থে এই মুহূর্তে ধর্ম-বর্ণ, দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ভারতের এ রকম বৈষম্য, অবিচল আধিপত্যবাদ ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের মাধ্যমে রুখে দাঁড়ানো একান্ত প্রয়োজন।

ভালোবাসি সৃষ্টির সকল জীব কে তার চেয়ে বেশী ভালোবাসি সৃষ্টিকর্তাকে,,,,সবচেয়ে যতন করে ভালোবাসি বাংলাদেশ কে।।

Wednesday, June 26, 2019

জনগণের করের অর্থে বড় সাহেবদের বেতন হয় তাই জনগণের সাথে সুন্দর আচরন করতে শিখুন।

জনগণের করের অর্থে বড় সাহেবদের বেতন হয় তাই জনগণের সাথে সুন্দর আচরন করতে শিখুন।

আমাদের সংবিধান মতে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তারা জনগণের সেবা দেবার শপথ নিয়ে চাকরিতে নিযুক্ত হন।তবে তা কি করে?

যদিও আমাদের দেশে চাকরি পেতে  ঘুষ দিয়ে হউক বা যোগ্যতার সুবাদে হউক।তবে বেশীভাগ সরকারী চাকরিজীবীরা অনিয়মের ভিতরে জড়িয়ে পড়ে।

বেশীভাগ সরকারী চাকরী করেন যারা তারা বসেন নামি-দামি গদির চেয়ারে।এমন কি নামী দামী চেয়ারে বসে ক্ষমতা অপব্যবহার থেকে শুরু করে যত অনিয়ম আছে প্রায় সরকারী চাকরিজীবিরা করে থাকে।

যেমন এই সমাজ রাষ্ট্রে আমরা সমাজবব্দ। এতে ছোট খাটো সমস্যা হবে হয় প্রতিবেশীদের সাথে রাষ্ট্রের যে কোন জনগণের সাথে।তবে এসব কে কেন্দ্র করে  অনেকে পৃর্ব জের ধরে  প্রশাসনের মাধ্যমে দমনের চেষ্ঠা করে।এমন কি নিজের স্বার্থের জন্য ক্ষমতা অপব্যবহার করে থাকে,এতে হুমকিতে থাকতে হয় চেয়ারে বসার লোকদের কাছে জনগন।এসব মনমানসিকতা পরিবর্তন আনা প্রয়োজন বাবুরা।।

আর যেখানে এই দেশের কর্মের দাতা সাধারণ জনগণ।তাদের সকল চাহিদা পৃরন করে থাকে।আর সেখানে জনগন বসেন সদ্য মাটিতে। অথবা তাদের কারো জায়গায় হয় না। এই দেশে এমন বৈষম্য আর কতদিন চলবে?

আমার মত রাষ্ট্রীয় এই সকল নীতিগুলো নিঃসন্দেহে লজ্জার এবং তা পরিবর্তিত হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।

এই দেশে একজন বঙ্গবন্ধু,নজরুল, হুমায়ন আহমেদ,  তাঁরা ওই নামি-দামি- গদিতে না বসে আপন শক্তিতে পৃথিবীর বুকে সৃজনশীলতার যে পরিচয় দিয়েছিলেন। বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে যে উচ্চতায় তুলে ধরেছেন।আর একজন গাড়ি বাড়িতে আধুনিক জীবন যাপন করা বাবুরা তাঁদের জীবদ্দশায় দেশের জন্য কী এমন বড় অর্জন দেখাতে পারবেন?

আমার মনে হয় তা তাদের দেখানো খুব কঠিন! আমাদের দেশের একজন সাধারণ মানুষ ভালো ব্যবহার পেলে অন্য মানুষের জন্য প্রাণ দিতে পারে! যা পৃথিবীর অন্য দেশে বিরল।।যেমন স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রমান করেছে।

ঠিক আমাদের দেশে পুলিশ বাহিনী থেকে শুরু করে সকল সেক্টরের সাহেবরা কাজের মাধ্যমে সেই অবস্থায় পৌঁছতে হবে। মানুষকে ভালোবেসে বুকে আগলে নিতে হবে। আর পুলিশ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়ে মাল রক্ষা করবার দরকার নেই। সেই আধিকারও তাদের দেয়া হয় নি।

তাদেরকে জনগণের জান ও মাল এই দুয়েরই রক্ষক হতে হবে। অন্যথায় একটি দেশে শান্তি স্থাপন সম্ভব হবে না। মনে রাখতে হবে প্রজাতন্ত্রের সাধারণ জনগণের করের অর্থে বড় সাহেবদের বেতন হয়।।

আর তা থেকে ব্যয় করে তাঁরা দেশ-বিদেশে বিলাসিতা করে বেড়াচ্ছেন! সব সময় একটি কথা হৃদয়ে যপে যাওয়া উচিত যে, হে প্রিয় বাংলাদেশ যতদিন তোমাতে অতিবাহিত করছি তোমাতে আমাদের ঋণের বোঝা বেড়েই চলেছে। আমরা যেন আমাদের শ্রম নিষ্ঠা সততা ও কাজের বিনিময়ে সেই ঋণ শোধ করতে পারি।

রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভখ্যাত সংবাদপত্র বা এর কর্মীদের প্রতি সকল রকমের জুলুম অত্যাচার নিপিড়ন বন্ধ করা হোক। গঠিত হোক ন্যায়ভিত্তিক সুষম সমাজ। শান্তির সোনার বাংলাদেশ।
লেখক- রিয়াদ রহমান

Tuesday, June 25, 2019

আধুনিক জাতি গড়তে প্রজন্মদের কে পারিবারিক, সামাজিক ও জীবনমুখী শিক্ষার গুরুত্ব দিতে হবে”


পৃথিবী আজ আধুনিক!উন্নত দেশগুলোর আধুনিকতা কারনে আমরা ধীরে ধীরে আধুনিক হচ্ছি, শিক্ষিত হচ্ছি কিন্তু মানুষ হওয়া থেকে দূরে সরে যাচ্ছি, আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে আমি মনে করি এর পেছনে পারিবারিক শিক্ষার অভাবই মূল কারণ সাথে সামাজিকতা!

যা দেখে আমরা শিখতেছি ও শিখছি।এতে আমরা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সনদধারী হচ্ছি যাহা হওয়া সহজ কিন্তু মানুষ হতে গেলে পারিবারিক শিক্ষার বিকল্প কিছু নেই। আমার মতে ‘পৃথিবীর সব চেয়ে বড় বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে পরিবার, আর সব চেয়ে বড় শিক্ষক হচ্ছে মা’।

সত্যিকার মানুষ সামাজিক জীব।মানুষ জন্মগ্রহন করে সৎ হিসেবে তবে অভাব ও পারিপাশ্বিক অসুস্থ  পরিবেশের কারনে মানুষ ভালো ও খারাপে চিহ্নিত হয়।এছাড়া আগে পরিবারের সবাই এক সাথে বসবাস করতো এই থেকে আমরা অনেক কিছু শিখতে পারতাম, তবে এখন পরিবার ছোট থেকে ছোট হচ্ছে আর আমাদের ছোট ভাই বোনদের কে, পৃথিবীটাও আমরা ছোট করে দিচ্ছি। একটা সীমানার মাঝে ওদের বন্দি করে রাখছি, রুটিন মাফিক একটা যান্ত্রিক জীবন উপহার দিচ্ছি।

আমাদের কে শুধু মাত্র পারিবারিক শিক্ষায় ক্যারিয়ার গড়া যাবে না সাথে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাটাও খুব জরুরী। কিন্তু বর্তমানে যে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দেয়া হয় তাতে আমাদের শিক্ষার হারই বৃদ্ধি পাচ্ছে কিন্তু শিক্ষিত মানুষের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে না।

ভাই বোনদের কে  ভালো স্কুলে ভর্তি করাতে হবে, শুধু পাশ করতে হবে, ক্লাশে রুল নাম্বার এক হতে হবে,জিপিএ ৫ ফেতে হবে এই চিন্তাই থাকে পরিবারের সবার মাথায়।

যখন ছাত্র এই সব করতে না পারে তখন চাপ বৃদ্ধি করা হয়, কয়েকটা কোচিং এর ব্যবস্থা করা হয় আর স্কুল যাওয়ার আগে কোচিং স্কুল ফেরত আসার পর অন্য কোচিং আর সন্ধ্যার পর আরেক কোচিং বাচ্চার খেলাধুলার সময়টা কোচিং এর মাঝে হারিয়ে যাচ্ছে ইদানিং মোবাইল, কম্পিউটার, ট্যাব, আইপ্যাড এই গুলোর শিক্ষার উপকরণ বলে চালিয়ে দিচ্ছি কিন্তু একবারও কি খোঁজ নিচ্ছি আমাদের ভাই বোনদের এই সব থেকে কি শিক্ষা নিচ্ছে।

আর সাথে ৩ থেক ৫ কেজি ওজনের ব্যাগ কাঁধে ঝুলিয়ে দিচ্ছি, ব্যাগের বোজা বইতে বইতে বাচ্চাটা সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছেনা। এতো রকমের চাপ অনেক বাচ্চাই বহন করতে পারেনা এবং এই থেকে মানুষিক ভাবে ভেঙ্গে পরছে, পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ করলে কেউ কেউ আত্মহননের পথ বেছে নেয়।

আমার একটি কথা পুরো দেশ তথা সন্দ্বীপের আগামী প্রজন্মকে “প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক শিক্ষাটার গুরুত্ব দিতে হবে”।বাস্তব কথা হলো শিক্ষার্জন তুলনাহীন৷ শিক্ষা মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যায়৷যাহা রাজনৈতিক বা সামাজিক যে কোন বিষয়েই একজন শিক্ষিত মানুষ বাকিদের সক্রিয় হতে সাহায্য করে৷

একটি সমাজ রাষ্ট্রে শিক্ষা হচ্ছে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক অঙ্গনের মূল চালিকা শক্তি৷বিশেষ করে গণতন্ত্র এবং ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে শিক্ষা কোন ধরণের ভূমিকা পালন করে তা নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই৷

সাধারনত একটি রাষ্ট্রে প্রাথমিক শিক্ষা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তবে গুণগত মান আছে কিনা সন্দেহ। এইসব প্রতিষ্ঠানে বেশীভাগ শিক্ষক সংখ্যক নারী।তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পাঠদান নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ। সময়মত স্কুলে উপস্থিত সহ বিভিন্ন অনিয়মের ছড়াছড়ি। অতিহারে অল্প পড়ুয়া কোটা ভিত্তিক নিয়োগ নারী শিক্ষকরা কি আর দিবে?

এমন কি আমাদের দেশে প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনের পাঠ্যবিষয়  জীবনমুখী শিক্ষাব্যবস্থা চালু নেই।এবং আমাদের দেশে শিক্ষাজীবনের শুরুতে  কোমলমতি শিক্ষার্থীদের তত্ত্বীয় শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক তথা হাতে-কলমে শিক্ষা পদ্ধতি নেই।

দেশের উন্নয়নের প্রয়োজনে প্রজন্মদের কে আধুনিক করে গড়তে  এমন শিক্ষাব্যবস্থা চালু করতে হবে, যা তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে স্বনির্ভর হতে সহায়তা করবে। জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে সেই শিক্ষা যেন কাজে লাগে।

বর্তমানে প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের যা শেখানো হচ্ছে তা এক ধরনের গৎবাঁধা তাত্ত্বিক শিক্ষা ছাড়া আর কিছু নয়। আমি কর্মমুখী  শিক্ষা কে প্রাধান্য দিতে গিয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের উক্তি মনে পড়লো জীবন যেমন হওয়া উচিত, শিক্ষাও তেমন হওয়া উচিত। জীবন ও শিক্ষা একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। তাই জীবনের চাহিদা মেটাতে সক্ষম সে রকম শিক্ষা চাই আমরা।

বর্তমান বিশ্ব কমার্শিয়াল বিশ্বতে রূপান্তরিত। তাই বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে আমাদের দেশে শিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে হবে।আমাদের অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য দরকার বৃত্তিমূলক শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলা।

আমি এক কথায় মনে করি অতি উন্নত প্রযুক্তির যুগে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী ও প্রযুক্তির শিক্ষা দিতে হবে। এক কথায় আমাদে প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা কে বাদ দিতে হবে। এই জন্য যে  জাতীয় অগ্রগতি, টেকসই উন্নয়ন এবং জীবনঘনিষ্ঠ শিক্ষার বৃহত্তর স্বার্থে বর্তমানে প্রচলিত পাঁচ বছর মেয়াদি প্রাথমিক শিক্ষার স্থলে আট বছর মেয়াদি প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।।

প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি সুদৃঢ় করার জন্য ন্যূনতম আট বছর মেয়াদি শিক্ষা পদ্ধতি চালু করা অত্যাবশ্যক। পৃথিবীর উন্নত দেশসমূহে আট হতে বারো বছরের বাধ্যতামূলক শিক্ষার মেয়াদ চালু রয়েছে। অষ্টম শ্রেণি শিক্ষা শেষে পাবলিক পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করা প্রয়োজন।

মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রাথমিক শিক্ষাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যায়।তাদের কে জীবনধর্মী ও কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি করা সম্ভব। প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য হলো শিশুর দৈহিক, মানসিক, সামাজিক, আধ্যাত্মিক, নৈতিক, মানবিক ও নান্দনিক বিকাশ সাধন এবং তাদেে কে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দর্শনে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।পারিবারিক, সামাজিক ও জীবনমুখী  শিক্ষার গুরুত্ব দিতে হবে।

লেখক
রিয়াদ রহমান এম এস এস রাষ্ট্রবিজ্ঞান।
সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ সাহিত্যচর্চা ও বিকাশ কেন্দ্র।