Tuesday, June 25, 2019

আধুনিক জাতি গড়তে প্রজন্মদের কে পারিবারিক, সামাজিক ও জীবনমুখী শিক্ষার গুরুত্ব দিতে হবে”


পৃথিবী আজ আধুনিক!উন্নত দেশগুলোর আধুনিকতা কারনে আমরা ধীরে ধীরে আধুনিক হচ্ছি, শিক্ষিত হচ্ছি কিন্তু মানুষ হওয়া থেকে দূরে সরে যাচ্ছি, আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে আমি মনে করি এর পেছনে পারিবারিক শিক্ষার অভাবই মূল কারণ সাথে সামাজিকতা!

যা দেখে আমরা শিখতেছি ও শিখছি।এতে আমরা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সনদধারী হচ্ছি যাহা হওয়া সহজ কিন্তু মানুষ হতে গেলে পারিবারিক শিক্ষার বিকল্প কিছু নেই। আমার মতে ‘পৃথিবীর সব চেয়ে বড় বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে পরিবার, আর সব চেয়ে বড় শিক্ষক হচ্ছে মা’।

সত্যিকার মানুষ সামাজিক জীব।মানুষ জন্মগ্রহন করে সৎ হিসেবে তবে অভাব ও পারিপাশ্বিক অসুস্থ  পরিবেশের কারনে মানুষ ভালো ও খারাপে চিহ্নিত হয়।এছাড়া আগে পরিবারের সবাই এক সাথে বসবাস করতো এই থেকে আমরা অনেক কিছু শিখতে পারতাম, তবে এখন পরিবার ছোট থেকে ছোট হচ্ছে আর আমাদের ছোট ভাই বোনদের কে, পৃথিবীটাও আমরা ছোট করে দিচ্ছি। একটা সীমানার মাঝে ওদের বন্দি করে রাখছি, রুটিন মাফিক একটা যান্ত্রিক জীবন উপহার দিচ্ছি।

আমাদের কে শুধু মাত্র পারিবারিক শিক্ষায় ক্যারিয়ার গড়া যাবে না সাথে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাটাও খুব জরুরী। কিন্তু বর্তমানে যে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দেয়া হয় তাতে আমাদের শিক্ষার হারই বৃদ্ধি পাচ্ছে কিন্তু শিক্ষিত মানুষের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে না।

ভাই বোনদের কে  ভালো স্কুলে ভর্তি করাতে হবে, শুধু পাশ করতে হবে, ক্লাশে রুল নাম্বার এক হতে হবে,জিপিএ ৫ ফেতে হবে এই চিন্তাই থাকে পরিবারের সবার মাথায়।

যখন ছাত্র এই সব করতে না পারে তখন চাপ বৃদ্ধি করা হয়, কয়েকটা কোচিং এর ব্যবস্থা করা হয় আর স্কুল যাওয়ার আগে কোচিং স্কুল ফেরত আসার পর অন্য কোচিং আর সন্ধ্যার পর আরেক কোচিং বাচ্চার খেলাধুলার সময়টা কোচিং এর মাঝে হারিয়ে যাচ্ছে ইদানিং মোবাইল, কম্পিউটার, ট্যাব, আইপ্যাড এই গুলোর শিক্ষার উপকরণ বলে চালিয়ে দিচ্ছি কিন্তু একবারও কি খোঁজ নিচ্ছি আমাদের ভাই বোনদের এই সব থেকে কি শিক্ষা নিচ্ছে।

আর সাথে ৩ থেক ৫ কেজি ওজনের ব্যাগ কাঁধে ঝুলিয়ে দিচ্ছি, ব্যাগের বোজা বইতে বইতে বাচ্চাটা সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছেনা। এতো রকমের চাপ অনেক বাচ্চাই বহন করতে পারেনা এবং এই থেকে মানুষিক ভাবে ভেঙ্গে পরছে, পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ করলে কেউ কেউ আত্মহননের পথ বেছে নেয়।

আমার একটি কথা পুরো দেশ তথা সন্দ্বীপের আগামী প্রজন্মকে “প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক শিক্ষাটার গুরুত্ব দিতে হবে”।বাস্তব কথা হলো শিক্ষার্জন তুলনাহীন৷ শিক্ষা মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যায়৷যাহা রাজনৈতিক বা সামাজিক যে কোন বিষয়েই একজন শিক্ষিত মানুষ বাকিদের সক্রিয় হতে সাহায্য করে৷

একটি সমাজ রাষ্ট্রে শিক্ষা হচ্ছে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক অঙ্গনের মূল চালিকা শক্তি৷বিশেষ করে গণতন্ত্র এবং ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে শিক্ষা কোন ধরণের ভূমিকা পালন করে তা নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই৷

সাধারনত একটি রাষ্ট্রে প্রাথমিক শিক্ষা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তবে গুণগত মান আছে কিনা সন্দেহ। এইসব প্রতিষ্ঠানে বেশীভাগ শিক্ষক সংখ্যক নারী।তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পাঠদান নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ। সময়মত স্কুলে উপস্থিত সহ বিভিন্ন অনিয়মের ছড়াছড়ি। অতিহারে অল্প পড়ুয়া কোটা ভিত্তিক নিয়োগ নারী শিক্ষকরা কি আর দিবে?

এমন কি আমাদের দেশে প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনের পাঠ্যবিষয়  জীবনমুখী শিক্ষাব্যবস্থা চালু নেই।এবং আমাদের দেশে শিক্ষাজীবনের শুরুতে  কোমলমতি শিক্ষার্থীদের তত্ত্বীয় শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক তথা হাতে-কলমে শিক্ষা পদ্ধতি নেই।

দেশের উন্নয়নের প্রয়োজনে প্রজন্মদের কে আধুনিক করে গড়তে  এমন শিক্ষাব্যবস্থা চালু করতে হবে, যা তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে স্বনির্ভর হতে সহায়তা করবে। জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে সেই শিক্ষা যেন কাজে লাগে।

বর্তমানে প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের যা শেখানো হচ্ছে তা এক ধরনের গৎবাঁধা তাত্ত্বিক শিক্ষা ছাড়া আর কিছু নয়। আমি কর্মমুখী  শিক্ষা কে প্রাধান্য দিতে গিয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের উক্তি মনে পড়লো জীবন যেমন হওয়া উচিত, শিক্ষাও তেমন হওয়া উচিত। জীবন ও শিক্ষা একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। তাই জীবনের চাহিদা মেটাতে সক্ষম সে রকম শিক্ষা চাই আমরা।

বর্তমান বিশ্ব কমার্শিয়াল বিশ্বতে রূপান্তরিত। তাই বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে আমাদের দেশে শিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে হবে।আমাদের অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য দরকার বৃত্তিমূলক শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলা।

আমি এক কথায় মনে করি অতি উন্নত প্রযুক্তির যুগে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী ও প্রযুক্তির শিক্ষা দিতে হবে। এক কথায় আমাদে প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা কে বাদ দিতে হবে। এই জন্য যে  জাতীয় অগ্রগতি, টেকসই উন্নয়ন এবং জীবনঘনিষ্ঠ শিক্ষার বৃহত্তর স্বার্থে বর্তমানে প্রচলিত পাঁচ বছর মেয়াদি প্রাথমিক শিক্ষার স্থলে আট বছর মেয়াদি প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।।

প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি সুদৃঢ় করার জন্য ন্যূনতম আট বছর মেয়াদি শিক্ষা পদ্ধতি চালু করা অত্যাবশ্যক। পৃথিবীর উন্নত দেশসমূহে আট হতে বারো বছরের বাধ্যতামূলক শিক্ষার মেয়াদ চালু রয়েছে। অষ্টম শ্রেণি শিক্ষা শেষে পাবলিক পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করা প্রয়োজন।

মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রাথমিক শিক্ষাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যায়।তাদের কে জীবনধর্মী ও কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি করা সম্ভব। প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য হলো শিশুর দৈহিক, মানসিক, সামাজিক, আধ্যাত্মিক, নৈতিক, মানবিক ও নান্দনিক বিকাশ সাধন এবং তাদেে কে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দর্শনে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।পারিবারিক, সামাজিক ও জীবনমুখী  শিক্ষার গুরুত্ব দিতে হবে।

লেখক
রিয়াদ রহমান এম এস এস রাষ্ট্রবিজ্ঞান।
সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ সাহিত্যচর্চা ও বিকাশ কেন্দ্র।

No comments:

Post a Comment