Friday, May 24, 2019

মুখস্থ গাণিতিক ইকুয়েশনস মত রাজনীতি চর্চার প্রভাব বৃব্দির ফলে দেশে গণতন্ত্র ডুবে যাচ্ছে।


বর্তমানে আওয়ামীলীগ সরকারের মাধ্যমে বড়  ধরনের উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে তা সত্য,এমন কি যুদ্ধাপরাধীর বিচারব্যবস্থা কার্যকর প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।

এছাড়া আন্তজাতিক দেশ গুলোর সাথে তালমিলিয়ে নিন্ম মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতেছে। অনেকেই আবার  মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পুঁজিঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বড় বড় নেতা হচ্ছে।

এসব শক্তির চেতনা কে লালন করে দেশে শেয়ারবাজার, ইউনুপে টু এবং অন্যান্য নামে হলমার্ক, ব্যাংকিং সেক্টরে লুটপাট থেকে শুরু করে বিভিন্ন অর্থনৈতিক কেলেংকেরী সহ রিজার্ভফান্ড চুরি করেছে।

এমন কি মুক্তিযোদ্ধারা আজ স্বাধীন দেশে থেকেও পরাধীন  অপেক্ষা অধিক অসহায় ও নির্যাতন ভোগ করছে।

দেশে গণতান্ত্র নামে  স্বৈরাচারী শাসন চলছে। এছাড়া নোংরা রাজনীতির শিকারে অর্থনীতি পঙ্গুত্বে পরিণত হয়েছে। জনগণ আজ নিরাপত্তাহীনতা ভূগছে।পুরো দেশ আজ দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও মৌলবাদদের উত্থানে জর্জরিত।

এমন কি অস্ত্রবাজী করে  হত্যা ,এবং বোমা, ক্যাডারবাজী, নিপীড়নে শিকার ও দলীয়করণ এগুলো রাজনীতির প্রধান উপাদান হয়ে উঠেছে।

এসবের ফলে জনগণ লাপাত্তার মত সর্বশান্ত হচ্ছে।দেশে বার বার রাজনৈতিক শাসকশ্রেণীরা দেশটাকে দু:শাসনের ভূখন্ডে পরিণত করেছে। দেশ আজ সন্ত্রাসী সার্বভৌমত্বের অকার্যকর অচল  রাষ্ট্ররূপে চিহ্নিত।

আমার মত মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের মাধ্যমে জনগণ এ ধরণের অপ্রত্যাশিত  বাংলাদেশ গঠনের আকাক্ষা ও স্বপ্ন  দেখেন নি। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও জনমতের বিপরীতেই দেশ আজ স্রোতের উল্টোগতিতে শাসিত হচ্ছে। সুশাসনের অভাবে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি অনিশ্চিত অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে এগুচ্ছে।

কিন্তু  দেশে বিনিয়োগের সুষ্ঠ পরিবেশ তেমন সৃষ্টি হয় নি,যদিও বর্তমানে বড় বড় রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা উন্নয়ন চলছে কিন্তু কর্মসংস্থান সৃষ্টি না করার ফলে জনগণ ক্রমশ বেকার হচ্ছে। দেশে বেকারত্ব সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

এমন কি দেশের জনগণের থেকে সরকার অতিমাত্রা ভ্যাট আদায় করে যাচ্ছে,এর পরেও সে পরিমানের তেমন উন্নয়ন হচ্ছে না। এছাড়া দেশে বিচার বিভাগ নিয়ে জনগণের মনে সংশয় ও প্রশ্নবিদ্ধ এটে আছে।

এর ফলে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সাম্যভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্য কখনোই পূরণ হবে না। বর্তমান প্রজন্মদের মতে দেশে সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্বল অবকাঠামো ও দুর্নীতিই দেশে বড় অন্তরায়।

যেমন সরকারের দলীয় রাজনীতি করনের ফলে  রাষ্ট্রের উন্নয়ন ব্যবস্থাপনার দৃর্বলতা, আইন ও আদেশ, শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রের অনিশ্চয়তা এবং সমাজ রাষ্টের জনগণের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দূর্বলতা, প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষাগ্রহণ শেষে চাকরি বড় সমস্যা।

১৯৭১ সালের   ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে, ৩০ লক্ষ শহীদ ও অগণিত মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে বিজয় চিনিয়ে এনেছে বাংলা  দামাল ছেলেরা।তাদের প্রধানতম লক্ষ্য ছিল, শোষণ ও অপ-শাসনের অবসান ঘটিয়ে সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলার প্রতিষ্ঠা, পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙ্গে দেশকে স্বাধীন করার তিব্র প্রচেষ্টায় আত্মত্যাগের ইতিহাস বাঙালী জাতির এক অনন্য বৈশিষ্ঠ্য।

১৯৫২ সালে ভাষার জন্য আত্মাহুতির পর্ব থেকে শুরু করে, ১৯৬৯ সালের গণ-জাগরণ, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি ও স্বতঃফুর্ত অংশগ্রহণে, বাঙালী জাতির বেশীর ভাগ মানুষ জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এক হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মুক্তির লক্ষ্যে। তারা অটল ও সঠিক ছিলেন বলেই মাত্র কয়েক মসের যুদ্ধে দখলবাজদের পরাজিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

অনেক রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে তারা বাঙালী জাতির বহুল প্রত্যাশিত স্বাধীনতা চিনিয়ে এনেছিলেন, যে স্বাধীনতার জন্য জাতি অপেক্ষা করছিল প্রায় দুই শত বছর যাবত। জাতির দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশা বা নিজেদের নিজ দ্বারা শাসন করবার প্রচেষ্টায় সফলতা অর্জনে, তাদের আত্মত্যাগ বা কর্মপন্থা নির্ধারণে তাদের কোন ত্রুটি ছিল না।

দেখা যাচ্ছে যে,জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের আত্মত্যাগ আজ বৃথা, বাঙালী জাতীয় সকল গুরুত্বপূর্ণ অর্জনই যেন অর্থহীন। যেমন বর্তমানে দেশে অপরাজনীতির ফলে তরুন প্রজন্ম বিপদমুখী হচ্ছে সমাজ রাষ্ট্র অস্থিরতা ভূগছে।দেশে যে কোন সরকার যদি নাগরিকদের দায়িত্ব পালন করে তারা কখনো জনগণ কে নির্যাতন ও দমনের মধ্যে দিয়ে শাসন করতে পারে না।এবং সমাজ রাষ্ট্রের সঙ্গে জনগণ কে বিচ্ছিন্নতা করতে পারে না।

দেশে রাজনীতিতে দমন নিপীড়নমূলক সংকটের গুণগত মৌলিক পরিবর্তন না হলে সীমাহীন নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসা যাবে না।

বিভিন্ন মহলের মতে,২০১৪ জাতীয় নির্বাচনে ৪০ থেকে ৬০ ভাগ মানুষ গত ৫ জানুয়ারি ভোট কেন্দ্রে যায়নি।কিন্তু সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রক্ষা পেলেও সরকারের রাজনৈতিক বৈধতা নিয়ে এখনো প্রশ্ন আছে।

সুষ্ঠ গনতন্ত্র নিয়ে কথা উঠে।আসলে রাষ্ট্রদর্শনের আদর্শ হিসাবে গণতন্ত্র বিশেষ স্থান ও স্বতন্ত্রের অধিকারী হিসেবে গণতন্ত্র বয়সে সুপ্রাচীন। কার্যত যখন থেকে মানুষের সমাজ জীবনের সূচনা হয়েছে তখন থেকেই মানুষ গণতন্ত্র সম্পর্কে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে এবং এর পক্ষে ও বিপক্ষে বিভিন্ন যুক্তি উপস্থাপন করেছিল।

জনগণের ক্ষমতায়ন, যাতে করে তারা সমাজের সুরক্ষিত কাঠামোর স্বার্থ এবং সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর প্রতিপত্তির বিরুদ্ধে স্বাধীনভাবে তাদের স্বার্থকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।আসলে প্রকৃত গণতন্ত্র চায় জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করতে, মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে, আইনের শাসন পালন করতে এবং জীবনযাত্রার মান সুনিশ্চিত করতে, কিন্তু বাংলাদেশে গণতন্ত্র কাঁটা তারের ঝুলিয়ে রাখা লাশের মত।এজন্য বাংলাদেশে গণতন্ত্র আজ ভীষন ভয়াবহ ও সংকটাপন্ন।

দেশের ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলই শুধু নয়, বিশ্লেষক ও চিন্তাবিদ বা জনসমাজের সদস্যরা এ ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করে থাকেন। কমবেশি সবাই বলেন যে বাংলাদেশে গণতন্ত্র টেকসই হয়নি অথবা শিকড় গভীরভাবে প্রোথিত নয়।

দুই দশকের বেশি সময় ধরে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থাকলেও কোনো রকম চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মতো গণতন্ত্র যে প্রতিষ্ঠিত হয়নি, সেটা সহজেই লক্ষণীয়।

গণতন্ত্রের এই সংকট বা সম্ভাব্য সংকটের বিষয়টি যে কল্পনাপ্রসূত নয়, তা-ও বোধগম্য। যেমন ২০০৬ সালে যে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছিল, তা-ই বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ভঙ্গুরতার একটা বড় উদাহরণ।অন্যান্য সূচকের মধ্যে রয়েছে পার্লামেন্টের অকার্যকারিতা, আইনের শাসনের অভাব, বিচার বিভাগের রাজনৈতিকীকরণ। এই বৈশিষ্ট্যগুলো যেহেতু বিশেষ কোনো একটি সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়, সেহেতু বিশ্লেষকেরা যথাযথভাবেই দাবি করেন যে এগুলো দেশের শাসনব্যবস্থার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।।

আইনবহির্ভূত হত্যা এবং এ ধরনের কাজে যুক্ত অপরাধীদের দায় থেকে অব্যাহতি বাংলাদেশে গণতন্ত্রের দুর্বলতার একটা সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট লক্ষণ। সাম্প্রতিক নিখোঁজ’ বা ‘গুম’ হওয়ার ঘটনার বিষয়গুলো শঙ্কাজনক ও লজ্জাস্কর।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক শ্রেণী, দল-নির্বিশেষে, এসব বিষয় চিহ্নিত করা এবং তা মোকাবিলায় পদক্ষেপ গ্রহণে অনুত্সাহী।আসলে বাংলাদেশের মানুষ যে গণতন্ত্রাকাঙ্ক্ষী, এ বিষয়ে সংশয় থাকার কোনো কারণ নেই। এ দেশের গণতন্ত্রাকাঙ্ক্ষী মানুষের অধিকারের প্রতি পাকিস্তানি শাসকেরা সম্মান জানাতে ব্যর্থ হয়েছে বলেই স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘঠেছে।

আমরা বাংলাদেশের ইতিহাসের দিকে তাকালে অনেকগুলো সুস্পষ্ট সূচক এই গণতন্ত্রাকাঙ্ক্ষার প্রমাণ বহন করে। যেমন অসংখ্য রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন সময়ে গণ-আন্দোলন এবং জাতীয় নির্বাচনে ব্যাপক সংখ্যায় অংশগ্রহণ।আসলে গণতন্ত্র হচ্ছে- ‘একটা নির্দিষ্ট সময়ের’ এবং ‘নির্দিষ্ট মানব সমাজের’ প্রতিষ্ঠিত বা প্রচলিত সামাজিক আইনকানুন বা নিয়ম মান্য করার বাধ্যবাধকতা, অন্যের অধিকারের বিষয়ে সচেতনতা, উপলব্ধি এবং দায়িত্ববোধও।অন্যভাবে বলা যায় গণতন্ত্র হচ্ছে- নিক্তির পরিমাপ।পরিমাপক বললে বিষয়টি আরো বুঝতে সহজ হবে।

আমাদের দেশের প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী ‘গণতন্ত্র বলতে’ বাক, ব্যক্তি ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে বুঝায়। এখানেই আমার প্রশ্ন- সবার বাক স্বাধীনতা থাকতে হবে।তবুও প্রশ্ন থেকে যাই স্বাধীনতা পেলেন কিন্তু ‘কি বিষয়ে বলবেন?কতটুকু বলবেন?এবং কেন বলবেন? অর্থাৎ প্রথমে আপনাকে বলার ‘বিষয়বস্তু’ ঠিক করতে হবে, আপনি ইচ্ছা করলেই যে কোনো বিষয়ে বলতে পারবেন না।

বিষয়বস্তু ঠিক হওয়ার পর ওই বিষয়ে আপনি কতটুকু বলবেন বা বলতে পারবেন? ইচ্ছা করলেই আপনি ‘যা খুশি তা’ বলতে পারেন না এবং পারবেন না।বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদ, অসাম্প্রদায়িকতা, অর্থনৈতিক সমতাভিত্তিক ও মৌলিক অধিকার  সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য। আপনি যদি বলতে থাকেন বা বলতে চান- বাংলাদেশ হচ্ছে মুসলিম জাতীয়তাবাদী-ইসলামিক প্রজাতন্ত্র, তাহলে কি আপনার বলার অধিকার তথা বাক-স্বাধীনতা থাকবে?

নাকি থাকা উচিত হবে? তাহলে বিষয়টি কি দাঁড়ালো? আপনি ‘চলার বা বলার’ অধিকার ভোগ করবেন- এটা এক ধরনের বায়বীয় বিষয়। মূল বিষয় হচ্ছে- আপনি কোন বিষয়ে বলবেন বা বলতে পারবেন এবং কতটুকু বলবেন বা বলতে পারবেন- এটা আগে ঠিক করে নিতে হবে। তারপর অধিকারের বা প্রয়োগের বিষয়টি আসবে।যেমন আপনি রাস্তা দিয়ে হাঁটবেন- এটা আপনার গণতান্ত্রিক এবং নাগরিক অধিকার। কিন্তু আপনি যে সমাজের বা দেশের রাস্তা দিয়ে হাঁটবেন, সে সমাজের বা দেশের রাস্তা দিয়ে হাঁটার কিছু নিয়মকানুন থাকে- অবশ্যই আপনাকে তা মেনে হাঁটতে বা চলতে হবে। কোনোভাবেই আপনি নিয়ম না মেনে হাঁটতে বা চলতে পারবেন না। যদি তা করেন বা করার চেষ্টা করেন- তাহলে হয় দুর্ঘটনা ঘটবে- নতুবা অন্যের অসুবিধা হবে। এখানে স্বাধীনতা বা গণতন্ত্র হচ্ছে আপনি যে দেশের রাস্তা দিয়ে হাঁটবেন সে দেশের রাস্তা দিয়ে হাঁটার নিয়মকানুন মেনে চলার দায়িত্ববোধ। ঠিক একইভাবে আপনি কথা বলবেন বা সমালোচনা করবেন বা আদেশ-উপদেশ দেবেন- কিসের ভিত্তিতে।

যদি প্রশ্ন করে কেউ - কি কি কারণে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল- অর্থাৎ জন্মের উল্লেখযোগ্য কারণগুলো কী কী? সংক্ষেপে এবং সংবিধান অনুযায়ী এখানে উত্তর হবে- বাঙালি জাতীয়তাবাদ, অসাম্প্রদায়িকতা, অর্থনৈতিক সমতাভিত্তিক ও মৌলিক অধিকার সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য। তাহলে আমরা কি উপরোক্ত বিষয়গুলো মেনে ‘চলা-বলার’ কাজটি করেছিলাম বা বর্তমানেও করছি? এখানে আমার উত্তর হবে- ১৯৭৫ সালের পর থেকে আমরা এর ‘উল্টোটাই’ করে এসেছি এবং বর্তমানেও করে যাচ্ছি। বাংলাদেশের জন্মের পর সবকিছু সুশৃঙ্খলভাবে ‘চলা-বলার’ জন্য কিছু নিয়মকানুন তৈরি হয়েছিল- যাকে ’৭২-এর সংবিধান বলা হয়।

আমরা কি এখনো এটা মেনে চলছি? না, আমরা একেবারেই মান্য করিনি বরং এর উল্টোটাই করেছি এবং এখনো করে যাচ্ছি। উপরোক্ত বিষয়গুলোর সঠিক উত্তরের আলোকেই আমাদের দেশে গণতন্ত্রের ব্যবহার বা প্রচলন হতে হবে। অর্থাৎ যে উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছিল- তা যথাযথভাবে মেনে চলাই হচ্ছে বাংলাদেশের জন্য গণতন্ত্র। গণতন্ত্র কায়েম অথবা বাস্তবায়ন করা যায় না অথবা বাস্তবায়ন করার বিষয়ও নয়। গণতন্ত্র হচ্ছে- নির্দিষ্ট সময়ের, নির্দিষ্ট মানব সমাজ বা রাষ্ট্র কর্তৃক নির্দিষ্ট করে দেয়া নিয়মকানুন বা আচার-আচরণসমূহ সঠিক এবং সুন্দরভাবে মেনে চলা এবং বলা।

আমাদের ‘বাংলাদেশ রাষ্ট্রের’ জন্মের কারণ, উদ্দেশ্য এবং রাষ্ট্র কর্তৃক নির্দিষ্টকৃত আইন বা নিয়মকানুনসমূহ অর্থাৎ আমাদের ’৭২-এর সংবিধান মেনে চলাই হচ্ছে বাংলাদেশের জন্য গণতন্ত্র। স্বাধীনতা অর্জনের ৪৭ বছর পরেও আমাদের উচ্চ আদালতের রয়ে একই নির্দেশনা বেরিয়ে এসেছে এবং প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ঐ রায় মান্য করাই হচ্ছে- বাংলাদেশের জন্য ‘গণতন্ত্র’ এবং অমান্য করা হচ্ছে ‘গণতন্ত্রহীনতা’।

গণতন্ত্রহীনতার কথা যারা বলেন তারা নিশ্চয় তাদের ভুল শুধরে নেবেন। বলতে হবে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র কর্তৃক নির্দিষ্টকৃত আইন বা নিয়মকানুনসমূহ সঠিকভাবে অথবা সংবিধান মোতাবেক মেনে চলাই হচ্ছে গণতন্ত্র। ওই আইন বা নিয়মকানুনসমূহ সঠিকভাবে মেনে চলা বা বলা হচ্ছে, নাকি হচ্ছে না- এটাই দেখার বিষয়।বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতিদের হত্যা করে, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠিত নিয়মকানুন পরিবর্তন করা গণতন্ত্র নয়।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর রাষ্ট্র কর্তৃক নির্দিষ্টকৃত নিয়মকানুনসমূহ অগণতান্ত্রিকভাবে পরিবর্তন করার পরও কাউকে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়নি ইতিহাস মত। উল্টো প্রায় সবাই ‘অগণতান্ত্রিক-সামরিক সরকারের’ কাছ থেকে ‘সুবিধা নেয়ার প্রতিযোগিতায়’ মনে হয় লিপ্ত ছিলেন।

অনেক স্বনামধন্য বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও সুশীল সমাজ ব্যক্তিরা বর্তমানে গণতন্ত্রের জন্য জীবন উৎসর্গ করতেও প্রস্তুত। এত রক্ত ও ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত একটি দেশের চরিত্র বদলে দেয়ার তরুন প্রজন্ম বুদ্ধিজীবী ও সুশীল সমাজ ব্যক্তিদের মুখ থেকে কোনোরকম প্রতিবাদ আসতে দেখা যায়নি।

ওই ঘটনা এটাই প্রমাণ করে না যে, আমাদের দেশের স্বঘোষিত বুদ্ধিজীবী ও সুশীল সমাজ নামধারী ব্যক্তিরা প্রকারান্তরে ‘স্বাধীনতা ও মুক্তির চেতনা বিরোধী’ ছিলেন।

শুধু গণতন্ত্রের মুখোশ পরে নিরপেক্ষতার ভান করছেন মাত্র। ইতিহাস মত ১৯৪৮ থেকে শুরু করে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ভাষাভিত্তিক বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন এবং বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের বাঁকে বাঁকে অর্থাৎ ৫২, ৫৪, ৫৮, ৬২, ৬৫, ৬৬, ৬৮, ৬৯, ৭০-এর নির্বাচন এবং ১৯৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে আমাদের দেশে অর্জনগুলো নিম্নরূপ-

ক) মুসলিম জাতীয়তাবাদের বিপরীতে, স্বতন্ত্র সত্তা হিসেবে বাঙালি জাতীয়তাবাদ তথা ‘স্বাধীন বাঙালি জাতি-রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠা। খ) গণতান্ত্রিক পদ্ধতি ব্যবহার করে অর্থনৈতিক সমতাভিত্তিক তথা সমাজতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার দিকে এগিয়ে যাওয়া। গ) ধর্মনিরপেক্ষতা তথা অসাম্প্রদায়িক, মানবিকতা সমৃদ্ধ এবং সব ধর্ম-বর্ণের বসবাস উপযোগী ‘বাঙালি সমাজ বা রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠা। উপরোক্ত বিষয়গুলোই হচ্ছে-বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা আকাক্ষা। এর মধ্যে ‘অসাম্প্রদায়িকতা’ হচ্ছে স্বাধীন বাঙালি রাষ্ট্রের বা সমাজ ব্যবস্থার ‘মেরুদণ্ড’। আওয়ামী লীগ উপরোক্ত চেতনার মূল ধারক- বিশেষ করে অসাম্প্রদায়িক সমাজ প্রতিষ্ঠার অন্যতম মূল ধারক এবং স্বাধীনতার ৪৭বছর পরও কিছু ভুলভ্রান্তিসহ আওয়ামী লীগ এখনো সে চেতনাকে ধারণ করে আছে। সংবিধানের মূল বক্তব্য বা প্রস্তাবনা নিম্নরূপ- (উপরোক্ত ‘খ’ অনুযায়ী) রাষ্ট্রের অন্যতম মূল লক্ষ্য হইবে- গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এমন এক শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজের প্রতিষ্ঠা- যেখানে সকল নাগরিকের জন্য- আইনের শাসকগণ, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত হইবে’।

দেখুন ২০১৪ পর রাজনীতি ক্ষমতা জোড়ে অপরাজনীতির ফলে সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা, পৌর সভা ইউপি নির্বাচনে সরকার কিংবা নির্বাচন কমিশন ভোটারদের মনে আস্থা সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছে এমন ধরনে খবরা খবর প্রকাশিত হয়েছে।

এমন কি সে সকল নির্বাচনগুলোতে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টিতে ব্যার্থতা সহ রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধ হয়নি।।যাহা জনমতে বড় প্রশ্নবিব্ধ নির্বাচন কমিশন নিয়ে যা বড় বড় ব্যাক্তিবর্গরা সমালোচনা করছে। দেশে নির্বাচন নিয়ে যে গণঅনাস্থা তৈরি হয়েছে তা খুব ভয়ের।

বিভিন্ন মহলের মত মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে বলে জনমতে এবং মিডিয়াতে দেখা গিয়েছে।। স্বাধীন দেশে পৃর্বে ভোটের অধিকার আদায়ের জন্যে আওয়ামী লীগ অনেক লড়াই করেছে। কিন্তু গণভিত্তি সম্পন্ন এমন একটি রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকার পরও ভোট দিতে না পেরে মানুষের মধ্যে প্রচন্ড- ক্ষোভ রয়েছে।

এসবের ফলে দেশে অনাকাঙ্খিত চক্রের ষড়যন্ত্র বৃদ্ধি পাওয়া বা ষড়যন্ত্রের ও চক্রান্তের শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার জমিনটা আরো পাকাপোক্ত হওয়ার আশঙ্কা বিরাজ করছে।এর ফলে বর্তমানে দেশে জঙ্গি হামলা নামে সাধারন মানুষ আতংকে বিরাজ করতেছে।।

তাই এসব দমন ক্ষেত্রে শুধুমাত্র প্রশাসনিক ভূমিকা নয়, দেশের সকল গৌষ্টি অপঃশক্তির শক্তির মোকাবেলা সাংস্কৃতিকভাবে করা উচিত।।

আসলে বাংলাদেশের উন্নয়নের বড় বাধা হল রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় মতবাদ সহ রাষ্ট্রীয় কাঠামোগত দুর্বলতা, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সুশাসনের বড় অভাব। এসব যদি বাংলাদেশে যে কোন সরকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রাষ্টের নীতিনির্ধারকরা গ্রহণ করে তাহলেই একটা নির্দিষ্ট সময় পর এই সব দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব একমাত্র অপরাজনীতি চর্চা বন্ধের মাধ্যমে।হত্যাযঙ্গ রাজনীতি পরিহার করে সুষ্ঠুভাবে রাজনীতি চর্চার পরিবেশ ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয় দেশে।তাই জনগণ অপরাজনীতি ঠেকাতে স্বচ্ছার হতে হবে।।

সত্যিকার আমাদের দেশে রাজনৈতিক দলগুলো সহিংসতা ছেড়ে সুশাসনের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু ধারার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে আসলে একটি দেশে ডায়মন্ড রাষ্টের মত ফলদায়ক হয়।

এছাড়া আমাদের দেশে রাজনীতিতে বড় সমস্যা একে অপরকে না মানা অমানা ও শ্রদ্ধাবোধের অভাবের একমাত্র কারন যেমন স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে স্বাধীরতার ঘোষনার ঘোষক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান, জয় বাংলা, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ এই সকল নিয়ে তাদের আদর্শিক দ্বন্ধে অনেক পুরোনো।

এর মধ্যে যোগ হয়েছে বিএনপি-জামাত জোট কর্তৃক মানবতা বিরোধী অপরাধ, যা থেকে নিরপরাধ নিরীহ মানুষ ছাড়া পাচ্ছে না। তাছাড়াও বর্তমানে দেশে যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হয়ে কার্যকর হয়েছে তা নিয়ে রাষ্ট্রের আইনের প্রতি শ্রদ্ধার অভাব রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এমন কি তা বানচাল করার জন্য কিছু বিভিন্ন জোট দলগুলো যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তির দাবি কর ভয়াবহতা সৃষ্টি করে যাহা জনগন কে বিপদমুখী করে তুলছিল।।

এসব যদি রাজনীতিতে বাস্তবতা চিত্র হয় তা হলে দেশে টেকসই রাজনীতি কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং এর মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন কীভাবে সংগঠিত হবে তা ভাবতে হবে।। জনকল্যাণকর রাজনীতির প্রয়োজনে সংলাপ করে সঠিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় করা রাজনৈতিক নেতাদের কর্তব্য।কিন্তু দেশের সরকার প্রধানসহ চৌদ্দ দলীয় জোট একটি শক্ত অবস্থান থেকে ঘোষণা দিয়েছে যে সন্ত্রাসীদের সাথে কোনো সমঝোতা নয়। তা হলে কি সময়ের আবর্তে তিলে তিলে গড়ে ওঠা সংলাপের সম্ভাবনাটির মৃত্যু ঘটেছে।এই দিকে জনগণের ভাগ্য নষ্ঠ হচ্ছে।।

দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যায় যে রাজনৈতিক দল হিসাবে বিএনপি যে কয়টি ভুল করছে তার একটি হলো ৫ জানুয়ারি, ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ থেকে বিরত থাকা দ্বিতীয়টি হলো ৫ জানুয়ারি, ২০১৪ সাল থেকে হরতাল- অবরোধের পথ বেছে নিয়ে সাধারণ মানুষকে পুড়িয়ে মারা তথা শিক্ষা ব্যবস্থা সহ জাতীয় অর্থনীতিকে ধ্বংস করার রাজনীতি যা সাধরণ মানুষ কখনো চায় না। এই সকল কারণে অহেতুক জনবিচ্ছিন্ন আন্দোলন করে দেশের সার্বিক উন্নয়নের ক্ষতি ছাড়া লাভ কিছুই হবে না। তাই টেকসই গণতন্ত্র তথা রাজনীতির স্বার্থে সকল রাজনৈতিক দলকে গণতন্ত্রের মূল্যবোধের ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনা করা বাঞ্ছনীয়।দেশের অপরাজনীতি চর্চা বন্ধ করা সকল দলের কর্তব্য।।

ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা করা জরুরী। আজ দেশে রাজনীতি কথা শুনলে অনেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে তার কারন কি? তা একমাত্র অপরাজনীতি চর্চা। যদি বলি রাজনীতি কি কোনো নিষিদ্ধ দর্শন তাহলে প্লেটো, এরিস্টটল, ম্যাকিয়াভ্যালির নিরলস পরিশ্রম করে জ্ঞানের সাধনা সে রাজনীতির সঙ্গে মিশে আছে সগৌরবে। যে রাজনীতির উত্কর্ষতা জন্ম দিয়েছে আধুনিক রাষ্ট্রনীতি, যে রাজনীতি সারা বিশ্বে জন্ম দিয়েছে সুশৃঙ্খল ও সভ্য জাতি ও রাষ্ট্র, সে রাজনীতি বঙ্গ মুল্লুকে এসে কেন শ্রী হীন হয়ে মানুষের ঘৃণা পেল? মূল কথা হল আজকে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ, তার জন্মইতো আগাগোড়া রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সিদ্ধান্ত ও ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে। তাহলে সে দেশের তরুণ প্রজন্ম কেন রাজনীতিকে ঘৃণা করে কিংবা নিজের একটা রাজনৈতিক আদর্শের পরিচয় দিতে লজ্জা ও সংকোচ বোধ করে।

কেন আজকের দিনের অভিভাবকেরা নিজের সন্তানকে রাজনীতির বলয় থেকে দূরে রাখতে পারাটাকে বিজয় হিসেবে দেখেন? এই সব প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে বিস্তর আলোচনায় না গিয়ে দেশের সাবেক রাজনৈতিক সংস্কৃতির বাস্তব ঘটনার ইতিহাসরর দিকে তাকালেই যথেষ্ট। রাজনীতির নামে চলেছে সিংহাসন কেন্দ্রিক মল্লযুদ্ধ। এই মল্লযুদ্ধে বিভক্ত হয়েছে জাতি। ভূলুণ্ঠিত হয়েছে জাতীয় স্বার্থ ও নাগরিক নিরাপত্তা। রাজনীতির নামে দলীয় লেজুড়বৃত্তির সন্ত্রাসে বার বার রক্তে রঞ্জিত হয়েছে একের পর এক শিক্ষাঙ্গন। রাজনীতির খোলসে আধিপত্যবাদ বা শোষণোন্মুখ চেতনা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। মোটকথা অপরাজনীতি চর্চার ফলে রাজনীতি তার জনকল্যাণমুখী রূপ পরিগ্রহ করে এক ভয়াল রূপে আবির্ভূত হয়েছে। এই কারণে সমকালীন রাজনীতি নিয়ে বাংলাদেশের কুলীন সমাজ ও সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ ও সামাজিক বিবমিষা জন্ম নিয়েছে। আমাদের তরুণ প্রজন্মের মনে যে রাজনীতি বিমুখতা এটা তারই প্রতিফলন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে তারুণ্যের রাজনীতি বিমুখতা জাতি বা রাষ্ট্রের জন্য কতটা কল্যাণকর? আদৌ কল্যাণকর নয়। বরং অশনিসংকেত। কেননা রাজনীতি না থাকলে সমাজে স্বৈরাচার কিংবা প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর অনুপ্রবেশ ঘটে। সমাজ হয় অস্থির ও ভারসাম্যহীন নাগরিকদের রাজনীতি বিমুখতা সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্বৃত্তায়নকে প্রশ্রয় দেয়।

তাই দেশের সকল নাগরিকদেরকে আগে সৎ রাজনীতি চর্চা করতে হবে। সত্যিই কথা হল আজকের তরুন প্রজন্ম সত্য জানতে চাইবে।এটা কোন অপরাধ নয়। আর তার উপর ভিত্তি করেই কেবল অতীতের সফলতা-ব্যর্থতা সঠিকভাবে নিরুপণ করা সম্ভব। আমাদের ভবিষ্যত গড়তে দাসত্বপণা আর দালালিকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে হবে। আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ বিজ্ঞানমনস্ক নয়, ভাববাদে বিশ্বাসী।

তাই জ্ঞানে আর শক্তিতে খুবই দুর্বল। কোনও বাধা অতিক্রম করার চেয়ে এর সামনে মাথানত করে আনুগত্য প্রকাশ করাকেই মুক্তি বা কল্যাণজনক মনে করি। যে কারণে আমরা সন্ত্রাসী,লম্পট্ আর দুর্বৃত্বের সামনেও বার বার মাথানত করতে দ্বিধা করি না। আমাদের মহত্ব আর মানবতাকে দুর্বলতার লক্ষ্মণ মনে করে আমরা তরুন প্রজন্ম আমাদের মনের মধ্যে জ্ঞানের আলো জ্বালাতে হবে। এতে মনে করার কোনও কারণ নেই যে শিক্ষিত লোকজন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা এ দায় থেকে মুক্ত। বরং সবচেয়ে অ্যালার্মিং বিষয় হচ্ছে শিক্ষা এ দেশের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর বড় অংশের মনে তেমন কোনও প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। উপরন্তু এরা এই শিক্ষাকে দুর্বৃত্বপনার কাজে মারণাশ্ত্র হিসেবেই ব্যবহার করে চলেছে।

আসলে শিক্ষিত লোকজনের চাটুকার নয়, আলোকিত হওয়া চাই। এ দেশের শিক্ষিত জনগোষ্ঠিকে জীবনযাপনের সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনা উন্নয়নের প্রধান শর্ত।

আমাদের দেশে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে জনগণের পালস বোঝার মতো ন্যুনতম যোগ্যতা রাখতে হবে। ভালো কাজ আর মন্দ কাজের পার্থক্য বোঝার যোগ্যতা থাকতে হবে।

পুতুল দিয়ে দেশ পরিচালনা করা বেশ কঠিন। মুখস্থ গাণিতিক ইকুয়েশনস দিয়ে দেশ চলে না। ব্রিটিশরা দেশ চালাতে এসে ভালো যা কিছু রেখে গেছে, ধারণ-ক্ষমতার এদেশের জনগণ তা গ্রহণ করতে পারিনি।

এখন দেশ চলছে প্রাচীন জমিদারদের আদলে। গোটা জাতিকে এই দেবতারা আজ আত্মতুষ্টির কাজে নিয়োজিত করতে পেরেছে। বেসরকারি উদ্যোগের দরুন দেশের একশ্রেণীর মানুষের জীবনে আর্থিক সমৃদ্ধির ছোঁয়া কিছুটা লাগলেও মনের দিক থেকে আমরা ক্রমেই অন্ধকার যুগের দিকে পিছিয়ে গেছি।যাই হোক জনগণ ঐক্য হয়ে দেশ সেবায় এগিয়ে যেতে হবে।

No comments:

Post a Comment