Saturday, May 25, 2019

সাহস,সততা, সত্যবাদিতা, ইতিবাচকতা, মানুষের জীবনে সুখ আনে।


মানুষের উন্নতির পথে কেবল বিদ্যা বা বুদ্ধিই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সাহসও। সাহস মানুষকে সফলতার পথে এগিয়ে দেয়। বাঁধা-বিপদ সব কিছুকে জয় করে সার্থকতার দিকে পৌঁছাবার সোপান হলো সাহস।।
পৃথিবীতে যে ভীরু, যে দুর্বল, সে অসহায়। মহাকাল সাহসী মানুষের জয়গান গায়। সাহসীরা সর্বত্র পায় সফলতার জয়মালা। দুর্বলের জন্য জমা থাকে শুধু ঘৃণা আর ব্যর্থতা।

আত্মমর্যাদা যার নেই সে কখনোই সাহসী নয়। সে ভীরু এবং তোষামোদকারী। এরা সমাজের উঁচু স্তরের পদগুলো দখল করতে পারলেও একজন আত্মমর্যাদা সম্পন্ন মানুষের কাছে সে নতজানু হবে অথবা তার সংস্পর্শ এড়িয়ে চলবে।আত্মমর্যাদা সম্পন্ন মানুষ স্বীয় দক্ষতায় বলীয়ান। সে উন্নত মানসিকতা এবং দৃঢ়চেতা হয়। বীরদের প্রত্যেকেই আত্মমর্যাদাসম্পন্ন।

আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে যত বৈপ্লবিক ও নতুন ধারণা এসেছে তা প্রথমে কোন এক জনের মস্তিষ্কে নীরব মুহুর্তে এসেছে। কমিটি-কমিশন কোন নতুন ধারণার জন্ম দিতে পারে নি। আমরা খ্যাতিমান হতে চাই, কিন্তু খ্যাতির জন্য নীরব সাধনা ও প্রয়োজনীয় কষ্ট স্বীকার করি না। তাই খ্যাতির শীর্ষেও যাই না। কিন্তু প্রয়োজন থেমে থাকে না।

এদিকে আবার প্রয়োজন আর অভাববোধ এক নয়। অভাববোধ হলো প্রয়োজন মেটার পরও আরো বেশি পাওয়ার জন্য অস্থিরতা। এই অস্থিরতা যখন মাত্রা ছাড়িয়ে যায় তখন সেটা হয় আসক্তি। মনে রাখতে হবে সুখী জীবনের জন্য প্রয়োজনের অতিরিক্ত কিছু আশা করা ঠিক হবে না। আবার আশা না করেও উপায় থাকে না। আশা করলে নিরাশ হতে হয় জেনেও আশায় বুক বাঁধে মানুষ।

পদক্ষেপ না নিয়ে আশা করা বোকামি। কে কি বলছে, না বলছে তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনি নিজের সম্পর্কে কি ভাবছেন। মানুষ প্রথম পরাজিত হয় তার নিজেরই কাছে। সব সময় চাই সাফল্য। সাফল্য মানে শুধু অর্থ-বিত্ত খ্যাতি বা ক্ষমতা নয় সাফল্য মানে কল্যাণকর সব কিছু পাওয়া বা করার সামর্থ্য বুঝায়।।

পারিপার্শ্বিক প্রতিকূলতা নয়, ব্যর্থতার মূল কারণ অন্তর্গত উদ্যমহীনতা। সাফল্যের জন্য আপনাকেই উদ্যোগী হতে হবে। আপনার কি নেই বা কি কি আপনি পারেন না তা নিয়ে হা-হুতাশ না করে যা যা আপনি পারেন তা নিয়েই শুরু করে দিতে হবে।

একদিন লক্ষ্য পূরণ অবশ্যই হবে। প্রয়োজন শুধু সৎ সাহসের।প্রত্যেকে চেষ্টা করলে নিজের অবস্থার উন্নতি করতে পারেন। কিন্তু এই চেষ্টার প্রধান শত্র“ হলো আত্মবিশ্বাসের অভাব। আত্মবিশ্বাসের একটি দুর্বার শক্তি আছে, যে শক্তি প্রাপ্তিকে সহজ করে দেয়। যদি কোন মানুষের এই ধারণা থাকে যে, তার মাঝে আরো অনেক লুকানো শক্তি আছে; তাহলে সে যা করছে প্রয়োজনে তার থেকে বহুগুণ বেশি কাজ সে অবশ্যই করতে পারবে। কাল-পরশু নয়, আজকের কাজ আজই করতে হবে।

অস্থির না হয়ে সময় নিতে হবে, পুরো কাজ এক সাথে না করে ছোট ছোট অংশে ভাগ করতে হবে, সময় অনুযায়ী সাজিয়ে নিতে হবে। অল্পেই বিরক্ত হওয়া যাবে না। তেমন জরুরী না হলে প্রতিক্রিয়া উপেক্ষা করতে হবে। সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে হবে ও সময় ব্যয়ের হিসাব রাখতে হবে। সুযোগ জীবনে বার বার ধরা দেবে না তা মনে রাখতে হবে।

আপনি যা ভাবেন, যা বিশ্বাস করেন তাই সত্য এবং যৌক্তিক ভেবে তর্ক করা ঠিক হবে না কখনো। কারণ আপনার ভাবনা এবং যুক্তির বাইরেও অনেক ভাবনা বা যুক্তি আছে যা আপনি হয়তো জানেনই না। আপনার ভাবনার বাইরের মানুষগুলো কী ভাবে তা শুনতে হবে এবং আপনার বিবেচনায় যদি তা অযৌক্তিক এবং বৈজ্ঞানিকভাবে ভিত্তিহীন মনে হয় তাহলে তার ভুল ভাঙ্গিয়ে দিতে হবে। অন্যের ভুল ভাঙ্গিয়ে দিতেও কিন্তু কিঞ্চিত সাহসের বলি চড়াতে হয়। আর যদি তা আপনার থাকে তবে চালিয়ে যান জয়ী হবেন প্রতিটি ক্ষেত্রে। খবরদার তর্কে জড়ানো যাবে না। তর্কে জেতা বুদ্ধিমানের কাজ নয় এবং বুদ্ধিমানের কাজ হলো তর্কে না জড়ানো।

মানুষ নিজেই সীমাবদ্ধতার ধারণা তৈরী করে। প্রত্যেক বুদ্ধিমান মানুষ তাদের সীমাবদ্ধতা ও যোগ্যতা সম্পর্কে জানেন এবং সীমালঙ্ঘন করেন না। একজন মানুষের সবচেয়ে বড় যোগ্যতা হলো অন্যের মন জয় করতে পারা। নিজেকে জাহির করে কারো মন জয় সম্ভব না। খেয়াল করে দেখুন তো, যারা যা না তা ফুটিয়ে তুললে আপনার কেমন বিরক্ত লাগে।

আপনার প্রতিও অন্যদের এমন লাগবে যদি সত্যি বুদ্ধিমান না হোন।মানুষ হয় কখনো মানবিক আবার অমানবিক। দুর্বল হয় মানসিকতা থমকে যায় মানবতা। তা নিয়ে সমাজে বাজে অনেক কথা। মানুষের যেমন দেহ থাকলেই সবাই মানুষ হয়ে ওঠে না। মানুষ হতে প্রথমেই প্রয়োজন মানবিকতা।

মানবিকতাহীন মানুষদের জন্যই যত আইন-আদালত, দারোগা, পুলিশ, নিয়ম-কানুন, ধর্মীয় বিধি নিষেধ। মানবিকতা ছাড়া মানব দেহ আর একটি পশুর মধ্যে পার্থক্য নেই। তাই মানবিক হয়ে পশুত্ব মুক্তি দিতে হবে। আর এক দিক, যদি কান ধরে টেনে আনা হয় তবে মাথা পাওয়া যাবে। আর মাথার সাথে গাঁথা থাকে শরীর, তাও আবার স্বাস্থ্যবান। সুস্বাস্থ্য মানে পেশীবহুল দেহ নয়, সুস্বাস্থ্য মানে কাজ করার সক্ষমতা। সক্ষম হতে হয় দৈহিক ও মানসিকভাবে।

আপনি কখনোই শুধু পেশী শক্তি দিয়ে একটা কাজ উদ্ধার করতে পারবেন না যদি তাতে উপযুক্ত মানসিক শক্তি কাজে না লাগান। কাজে সফলতা লাভের পূর্ব শর্ত হলো সেই কাজে মানসিকভাবে, গভীরভাবে মগ্ন হওয়া।
মানুষের জীবনে এমন কিছু ঘটনা ঘটে যা মেনে নিতে মন প্রস্তুত থাকে না। কষ্ট হয় কিন্তু সময়ের সাথে কষ্টটা ভুলে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হয়। কারণ অতীত আঁকড়ে ধরে থাকলে ভবিষ্যতে সফলতা আসবে না। বুকে সাহস, অন্তরে বিশ্বাস আর অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে ভবিষ্যতের জন্য।
এদিকে বিশ্বাস ব্যাপারটা অনেকের কাছে হাস্যকর মনে হতে পারে। হাস্যকর এই জন্যই বলা- কারণ বিশ্বাস করাটাই দুর্লভ।

কেউ যদি কখনো কাউকে বিশ্বাস করে সেটা বাধ্য হয়েই করে। কোন কিছু অর্জন করার জন্যই কেবল অপরকে বিশ্বাস করে। আমরা মানব জাতি শুধু পাওয়ার লোভেই বিশ্বাস করি। হারানোর জন্য কেউ বিশ্বাসকে বিশ্বাস করি না। আর যারা সহজ সরল মনের হয় তারা আগ-পাছ কিছু চিন্তা না করে বিশ্বাসের ভেল্কি বাজি দেখার জন্য তীর্থের কাক হয়ে বসে থাকে। যারা চতুর তারা সহজে কাউকে বিশ্বাস করে না। বিশ্বাস নিয়ে বোকা-চালাক এর ইঁদুর বিড়াল খেলা চলতেই থাকবে। আবার অতি চালাকী ভালো নয়। কারণ আমরা জানি, অতি চালাকের গলায় দড়ি। ফাঁস হচ্ছে কর্মের ফল। আর কর্মের গুণ হচ্ছে ফুলের মালা। তবে দু-টোই কিন্তু ফাঁস। একটা শক্ত অপরটা কোমল।

বিশ্বাস করা কিন্তু সাহসিকতা নয়। বিশ্বাস হচ্ছে আমি আপনার কাছে আত্মসমর্পণ করলাম। এর ভালো দিক মন্দ দিক আপনার উপরই নিহিত। কাজেই আত্মসমর্পনাকারীকে নিশ্চয় ধ্বংস করা পুরুষের কাজ নয়, তা হবে কাপুরুষতা।

কাপুরুষতা হচ্ছে সাহসীকতার বিপরীত। সাহসীকতা হচ্ছে অন্তরের দৃঢ়তা। আর মানুষের অন্তর বা কাল্ব হচ্ছে সকল ভালো কাজের উৎস। আর অন্তর দৃঢ় থাকতে পারে না যদি মন সুস্থ না থাকে। যদি অন্তর দুর্বল হয় তাহলে এটা কাপুরুষতার দিকে নিয়ে যায়। আর যদি অন্তর বেশি কঠিন হয় তাহলে তা মানুষকে বেপরোয়া করে তোলে। কাপুরুষদের কাপুরুষিকতা দূর করার সবচেয়ে বড় চিকিৎসা হলো ভয়ের কারণ দূর করা। কি কারণে সে ভীত, সেই কারণকে খুঁজে বের করে তা দূর করা। যদি ভয়ের কারণ হয় অজ্ঞতা তাহলে অজ্ঞতার প্রতিষেধক হচ্ছে ইলম অর্জন করা। যদি অজানা কোন কিছুর ভয়ে কেউ ভীত হয় তাহলে তা দূর করার উপায় হচ্ছে সেই পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করা। অজানা বিষয়কে বা পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করার মাধ্যমে একটি অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়, ফলে সে বিষয়টি আর নতুন বা অজানা থাকে না।

আমরা দেখেছি, জনতার সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুরুর দিকে অনেকেই ভীতিতে আক্রান্ত হন। কিন্তু বার বার এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করার মাধ্যমে এই অজানা ভীতি দূর হয়ে যায়। অভিজ্ঞতা হচ্ছে এই অজানা বিষয়ের ভীতির প্রতিষেধক। একটি অজানা নতুন পরিস্থিতির কারণে উদ্বিগ্নতা, কিন্তু যদি সেই ঘটনাটি বার বার ঘটতে থাকে তাহলে সেই বিষয় থেকে ভয় চলে যায়। মানুষের অরিজিনাল স্বভাব বা ন্যাচার পরিবর্তন করা সম্ভব।

প্রমাণ হিসেবে এই উদাহরণটিই যথেষ্ট বলে মনে করি যে, একটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিশু একটি বড় সাপ দেখে ভয় পায় না, কিন্তু একজন সাহসী যুবকও ভয় পেতে পারে। আবার সেই একই শিশুটি হয়তো একটি টিকটিকি দেখে ভয় পেতে পারে। অরিজিনাল ন্যাচার বা আদি স্বভাব পরিবর্তনের একটি ভালো উদাহরণ হলো, বন্য পশুকে পোষ মানানো, বন্য পশুকে পোষ মানানোর মাধ্যমে তার স্বভাবের ন্যাচারকে পরিবর্তন করা যায়। এর জন্য প্রশিক্ষণ দরকার। একটা নেকড়ে- ভেড়ার সাথে খেলা করতে পারে, বিড়াল পাড়ে ইঁদুরের সাথে খেলতে, কুকুর -বিড়াল একসাথে থাকতে পারে।

যদি তাদের স্বভাবের বিপরীতে তারা আচরণ করতে পারে, অথচ এগুলোতো তাদের আদি স্বভাবের বিপরীত। এখন একটা পশু যদি নিজের স্বভাব প্রকৃতি পরিবর্তন করতে পারে তাহলে মানুষ কেন পারবে না?
অন্যান্য পশু-প্রাণীর সাথে মানুষের সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো, মানুষই কেবল হাসতে পারে। হাসি মানুষের সবচেয়ে সুন্দরতম মানবিক আবিস্কার। তবে হাসির পাশাপাশি পশুর মতো ঝগড়া, হিংস্রতা, গলাবাজি, দখল, নোংড়ামিগুলোকে বর্জন করতে পারে নি মানুষ।

এসব কার্যকলাপের সময় মানুষ কে আর পশুর থেকে আলাদা করা যায় কি? হেসে জয় করতে শিখতে হবে সবাইকে। সততা, সত্যবাদিতা, ইতিবাচকতা, মানুষের জীবনে সুখ আনে। আপনি অসৎ, মিথ্যাবাদী আর নেতিবাচক মানুষ হয়ে কখনোই সুখের আশা করতে পারেন না। যদি মন খুলে হাসতে না পারেন তাহলে বুঝবেন আপনার জীবনে কিছুই অর্জন করতে পারেন নি। আপনার সুন্দর হাসি যে দিন অন্যকে প্রভাবিত করবে সেদিনই আপনি প্রকৃত সুখ কি তা বুঝতে পারবেন।

ভদ্রতা সভ্যতার এক অপার মানবিক নিদর্শন। তবে মেকি ভদ্রতা নিজের এবং অন্যের জন্য অশুভ। আন্তরিকতার সাথে ভদ্রতা করতে হবে। ভদ্রতার আর এক নাম সহানুভূতি ও প্রেম। যে পরিবারে ভদ্রতা নেই, সেই পরিবারের সদস্যরা সাধারণত নিষ্ঠুর হৃদয়, কান্ড-জ্ঞানহীন, স্বার্থপর এবং কটুভাষী হয়ে থাকে। সম্পর্ক ধরে রাখা খুব কঠিন একটি কাজ।

তার পরও মানুষ এই সম্পর্ক ধরে রেখেও হোচট খায়। হঠাৎ করেই সম্পর্ক ভেঙ্গে যায় যা মানুষ আশা করে না। সম্পর্কের উন্নয়ন নির্ভর করে, কথা বলা ও যোগাযোগের ওপর। খেয়াল রাখতে হবে কখন কাকে কোন অবস্থায় কি বলছেন। যত সুন্দর ভাবে, শ্রদ্ধার সাথে বলবেন ততো আপনার কথার প্রভাব বাড়তে থাকবে। কেউই অন্যের কথায় বিব্রত হতে চায় না। তাই খেয়াল রাখতে হবে, যেন কেউ আপনার কথায় বিব্রত না হয়।

নেতৃত্ব দানের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো সাহস থাকা। ভয়ের মুখোমুখী হয়ে তা জয় করার মাধ্যমেই এটি অর্জিত হয় এবং এর প্রতিদানও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। সাহস হলো উঠে দাঁড়ানো এবং বলতে পারার সামর্থ্য। সাহস হলো বসে অন্যদের কথা শুনতে পারার সামর্থ্যও।

সাহস আসে কোথা থেকে? কেউ সাহস নিয়ে জন্মায় না। অভিজ্ঞতার আলোকেই সাহস তৈরী করে নিতে হয়। যখনই আপনি আপনার ভয়কে মোকাবেলা করবেন, তখনই আপনার আত্মবিশ্বাস আর সাহস বাড়বে। ফলাফল যাই হোক না কেন আপনার ভয়ের কারণে আপনি যা ভাবতেন ব্যাপার সে রকম নাও হতে পারে। এই জন্যই আবার নিজের পায়ে উঠে দাঁড়ানো রূপকটি একটা শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারে।

তাছাড়া আপনি যতবার ভয়কে প্রশ্রয় দেবেন, তা ততই বাড়বে। আগে হোক বা পরে এক সময় দেখবেন যে আপনার ভয় জয় করার আর কোন সুযোগই নেই আপনার হাতে। এবং এর ফলে আপনার সারাজীবনের আফসোস তৈরী হবে। ভয় মোকাবেলা করা এবং আফসোসের সুযোগ না রাখা দুটোই প্রেরণা সৃষ্টির জন্য শক্তিশালী। এর কোন যথার্থ কারণ হয়তো নেই তবে এটি যে আপনার ক্যারিয়ার আর জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে তা নিশ্চিত।

আরেকটি কথা যা হলফ করে বলা যায় তা হলো আমাদের সবার মধ্যেই ভয় জয় করে সাহস তৈরী করার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে এখন আপনি সেই সম্ভাবনাকে কিভাবে কাজে লাগাবেন তা আপনার উপরই নির্ভর করবে।

আত্মবিশ্বাস শুধু একটি শব্দ নয়, একটি শক্তি যা আমাদের জীবনের কঠিন পরিস্থিতিও সহজভাবে মোকাবেলা করার সাহস দেয়। আত্মবিশ্বাসের অভাব আমাদের ভেতরের অনেক সম্ভাবনাকেই কুঁড়িতেই ঝরিয়ে দেয়। জীবনের অনেক সংকল্পই অসম্পূর্ণ থেকে যায় শুধু আত্মবিশ্বাসের অভাবে।

কিন্তু এই সমস্যার সমাধান আছে আপনার হাতের কাছেই। কিছু সহজ পদক্ষেপ নিন নিজের জন্য। ফিরে দেখুন- একবার নিজের জীবনের পরিস্থিতি একটু ভেবে দেখুন। কোন কোন বিষয় আপনার নিয়ন্ত্রণের ভিতরে আছে আর কোনটি নেই। নিজের ডায়েরীতে লিখুন এবং সে সকল বিষয় নিয়েই চিন্তা করুন যা পরিবর্তনের ক্ষমতা আপনার আছে। তা হতে পারে আপনার পেশাগত দিক যা ব্যক্তিগত সম্পর্ক তার যে টুকু আপনি সক্রিয়ভাবে পরিবর্তন করতে পারেন তাতেই নিজের সময় ও শক্তি ব্যয় করুন।

যদি কোন কিছু আপনার সাধ্যের বাইরে থাকে তবে তা মেনে নিতে হবে। এবং সামনে অগ্রসর হতে হবে। আপনার শক্তি অন্য কোথাও ব্যয় করতে হবে। নেতিবাচক প্রভাব এড়িয়ে চলতে হবে। যদি কোন ব্যক্তি বা পরিস্থিতি আপনার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তবে একটু ভেবে নিতে হবে সেই ব্যক্তির বা পরিস্থিতির আপনার জীবনে ঠিক কতটা গুরুত্ব আছে। ইতিবাচক বন্ধুত্ব এবং ইতিবাচক কাজ কর্মকেই জীবনে প্রাধান্য দিতে হবে।

নিজেকে দোষারোপ করা বন্ধ করতে হবে। মনে রাখতে হবে আপনি আপনার সাধ্যের অতিরিক্ত কখনোই করতে পারবেন না। যখন পরিস্থিতি আপনার নাগালের বাইরে চলে যাবে নিজেকে তার দোষ দিবেন না। বরং ভাবুন আপনার পরবর্তী পদক্ষেপ কি হতে পারে। আপনজনদের নিয়ে একদিন পরিকল্পনা করুন। পরিবার ও বন্ধু বান্ধবদের নিয়ে কিছু পরিকল্পনা বানান। কাছের মানুষদের সাথে কিছু ভালো সময় কাটাতে হবে। যা জীবনের কঠিন সময়েও আপনি মনে করতে পারবেন এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দিবে। এটা আপনার ভিতরে আত্মসম্মান গড়ে তুলবে। নতুন কিছু করুন।

নতুন কোন শখ বা কাজ আয়ত্ব করুন। নতুনত্ব মন ও মস্তিষ্কের জন্য ভালো। এটা আপনাকে নতুন কিছু অর্জনের অনুভূতি দিবে এবং নিজের মূল্য বুঝতে সাহায্য করবে। সাফল্যকে চিনতে হবে। ছোট এবং সহজ লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। কাজের এমন মনদন্ড বের করতে হবে যে, আপনি তা অর্জন করতে পারবেন। লক্ষ্য অর্জনের পর একটু থামুন এবং ভেবে দেখুন আপনি কতটুকু অর্জন করতে পারলেন।

নিজের সাহস বড় সাহস। তা না থাকলে পৃথিবীর সমস্ত সাহস মনে জুড়ে দিলেও তা হবে কুপির ভেতরটা তৈল্য শূন্য রেখে, তৈল সাগরে কুপিটিকে আকন্ঠ ডুবিয়ে রাখার শামিল। বড় কিছু করার জন্য বড় কোন পদ লাগে না। লাগে একটু বড় মন, সাহস, অধ্যবসায় আর পরিশ্রম। কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলে গেছেন, তারুণ্য তখন আসে, বয়সের সীমানায় তারুণ্য বাঁধা যায় না। তারুণ্য থাকে মনে। উদ্যমী, সাহসী, পরিশ্রমী প্রতিটা মানুষই তরুণ। আপনি এগিয়ে আসুন। সামর্থ্য মতো চেষ্টা করুন, পথ অবশ্যই আছে। কারণ পথ পথিকের সৃষ্টি করে না পথিকই পথের সৃষ্টি করে। যারা সত্যিকার অর্থে নিঃস্বার্থ তাদের কোন

বাঁধা পিছুপা করতে পারে না। আপনার কাছে হয়তো এমন কোন চিন্তা আছে যেটা অনেকের উপকার করতে পারে। আপনি সেটা বাস্তবরূপও দিতে চান কিন্তু একা দিতে পারছেন না। সহযাত্রী খুঁজতে থাকুন, আপনার প্রতিজ্ঞা দৃঢ় হলে আপনি খুঁজে পাবেন। নিশ্চয় পাবেন।
হতাশা ও আনন্দ হচ্ছে এক পরস্পর বিরোধী অবস্থান। হতাশাবোধ আনন্দ মাটি করে দেয়। দুঃখ বিলাস বা কিছুই ভালো না লাগা আলস্যের একটি রূপ। যারা কিছু করে না, তাদের আসলে কিছু ভালো লাগে না। আর যারা ব্যস্ত তাদের কিছু ভালো না লাগার সুযোগ থাকে না। কর্মব্যস্ত থাকলে, ভালো লাগবে।

ও-হ্যাঁ আরও একটি কথা- কোন কিছু শুরু করার আগে শেষটা কি ভাবে করবেন তা শিখে নিতে হবে। শেষটা না জানা থাকলে পুরো কাজটিই ব্যর্থ হয়ে যায়।জীবনকে পরিপৃর্ণ করতে হলে যুব সমাজ নষ্ট  রাজনীতি চর্চাকারীদের থেকে দৃরে থাকতে হবে।

No comments:

Post a Comment