Saturday, May 25, 2019

আবদুর রশিদরা বার বার অনিয়ম কে নিয়ম মেনে নিয়ে হেরে যাই!

আবদুর রশিদ একজন পোশাক শিল্পের কর্মী। থাকেন ঢাকা আশুলিয়া।প্রতি রমজান মাসে সকাল ৭ টা  থেকেই তার ডিউটি শুরু হয়। তবে সকাল সাড়ে ৭ টায় ডিউটিতে যোগ দিতে হবে বলে ভোর ৫.৩০ মিনিটে  ঘুম থেকে উঠতে হয় তাকে।।

প্রাত্যহিক প্রস্তুতি নিয়ে নাশতা সেরে গাড়িতে সকাল সাড়ে ৭টায় নির্ধারিত ডিউটিস্থলে আসেন।  ডিউটি শেষ হয় রাত ১১-৩০ মিনিটে।

বাসায় ফিরতে সময় লেগে যায় আরও বেশ কয়েক ঘন্টা প্রায় রাত ১ টা। টানা ১২-১৬ ঘণ্টা ডিউটির কারণে রাস্তার ফুটফাতে ইফতার করে পুনরায় কাজে ফিরতে হয়।

একটু দেরী হলে চাকরী হারানো সহ কত না খারাপ ভাষা কথা শুনতে হয়।এই দিকে বাসায় ফিরে রান্না শেষ করে সেহেরি খেয়ে নামাজ শেষ করে ঘুমানোর সময় পর্যন্ত থাকে না।ঠিক বরাবরের মত সকালে কাজে উপস্থিত থাকতে হয়।রমজানের নামাজ পর্যন্ত ঠিকমত আদায় করা অসম্ভব হয়ে দাড়াই।নামাজ পড়তে গেলে কত না কপিয়ত দিতে হয়।

এভাবে প্রায় প্রতিদিনই আবদুর রশিদের মতো অনেক গার্মেন্টস কর্মীকে ১২-১৪ ঘণ্টা ডিউটি করতে হয়। কখনও কখনও করতে হয় ১৮ ঘণ্টা।

গার্মেন্টস কর্মীদের থেকে  জানা যাই, তাদের ডিউটি  অন্যান্য  কর্ম থেকে বেশী।২৪ ঘণ্টা মধ্যে মাত্র ৪/৫ ঘণ্টা তারা ঘুম কিংবা বিশ্রামে থাকতে পারেন। ডিউটির সময় একটু কমলে তাদের শারীরিক ক্লান্তি দূর হতো। কাজকর্মে উদ্দীপনা বাড়ত।বাংলাদেশে বর্তমানে একজন রাজমিস্ত্রি বা দৈনিক দিনমজুর সকাল ১০ টা থেকে দুপুর পর্যন্ত কাজ করে ১ হাজার টাকা ইনকাম করে।আর গার্মেন্টস কর্মীরা সারাদিন কাজ করে দিন মজুরের মত ক্যাশ টাকা দৃরের কথা ১ হাজার বেতন পাওয়া স্বপ্নের মত।

তারা আত্মীয়-স্বজনের অনুষ্ঠানেও ঠিকমতো অংশ নিতে পারেন না । এ ছাড়া তাদের নৈমিত্তিক ছুটি বছরে ২০ দিন, যার সব তারা কাটাতে পারেন না। কারণ কাজের চাপ থাকায় এসব ছুটি তাদের ঠিকমতো দেওয়া হয় না। এমনকি অর্জিত ছুটি ২৮ দিন নিতেও নানা সমস্যা হয়। অবশ্য এ ছুটি না কাটালে তারা অতিরিক্ত টাকা পেয়ে থাকেন।

যেহেতু কাজের চাপে তাদের সাপ্তাহিক ছুটি নেই, সেহেতু মালিক পক্ষ থেকে পাওয়া ছুটিগুলো ঠিকমতো পেতে চাইছেন তারা। এতে তারা তাদের পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন। ঝুঁকি ভাতা বাড়ানো ও 'ফ্রেশ মানি' দেওয়ার কথাও বলেন তারা।

একাধিক গার্মেন্টস কর্মীদেন সঙ্গে কথা বলে জানা যায় দিনভর ধুলো-বালি আর বিষাক্ত আবহাওয়া ভেতর ডিউটি করে।শরীলে এলার্জি শ্বাস রোগের মত ভয়াবহ রোগের আক্রান্ত হচ্ছে এসব জেনেও শুধু দুই চারটা টাকার বিনিময়ে দুই মুঠো ভাত খাওয়ার আশায় কাজ করে।সেখানে প্রায় না ঠিকমত বেতন।সময়মত সুযোগ সুবিধা।এমন কি তাদের ঈদের সময় বেতনের জন্য প্রতিবছর আমাদের দেশে আন্দোলন করে টাকা নিতে হচ্ছে।টিয়ারগ্যাস ব্যবহৃত হয় তাদের উপরে।তবুও তারা টাকার জন্য অপেক্ষা থাকে সন্তানের জন্য একটি ঈদের পান্জাবী কনবে বৃব্দ বাবার জন্য একটি লুঙ্গি কিনবে মা জন্য শাড়ী কিনবে কত স্বপ্ন নিয়ে কাজ করে সে স্বপ্ন পর্যন্ত পৃরন হয় না।।

রমজান মাসে বৃব্দ বাবা মা আশা করে আমার সন্তান ইফতারের জন্য টাকা পাঠাবে! সন্তান টাকা পাঠানো দৃরের কথা নিজে ইফতার করা কষ্টকর হয়ে দাড়াই। বাবা মা স্ত্রী কত না আশা রাখে।

যখন টাকা পাঠাতে পারে না তখন পরিবারে সন্দেহ কাজ করে।সন্তান কি গার্মেন্টস চাকরী করে অন্য কোন বিয়ে করেছে নাকি?নয়তো বা কেন টাকা পাঠাচ্ছে না।এই ভাবে সন্দেহ বাড়তে বাড়তে এক সময় সংসার পর্যন্ত বিচ্ছেদ ঘটে।।

এছাড়া এমন এক কর্ম যেখানে নেই পরিবার কে সময় দেওয়ার মত সময়,এবং নেই আপন প্রতিবেশীদের সুখে দুঃখে থাকার মত সময়!শুধু রহিয়াছে ত্যাগ।আবদুর রশিদরা মনে করে জেল খানার চেয়ে মানবেতর জীবন কাটাতে হয় এই সেক্টরে।যেখানে শুধু ১৬ ঘন্টা ৪ দেওয়ালে ভিতরে কাজ করা। এমন কি নেই কোন ব্যাক্তিত্ব।জুতা খুলে কাজ করতে হয়।জুতা পড়ে কাজ করা সম্ভব নয়।১ মিনিট বসার সুযোগ নেই মানবেতর জিবন।কখনো কেউ যদি এক মিনিটের জন্য বসে রহিবে থাকবে না চাকরি।এই হলো কঠিন মানবেতর জীবন গার্মেন্টস জেলের জীবন।

হযরত মুহাম্মদ সঃ বলেছেন শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগে টাকা প্রদান কর।তোমার মজুরি প্রদানের উপর আল্লাহ বরকত দান করবে।সৃতারাং ভালোবসতে শিখি দিন মজুর মজলুমদের কে উন্নতি হবে নিশ্চিত তোমাদের।।প্রেষনা দিয়ে গড়বো আমরা সোনার শিল্প।জয় হউক ন্যায়ের।

No comments:

Post a Comment